
ভারতীয় রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সিদ্ধান্তে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পাথর আমদানিকারকদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। শুল্কায়নের জন্য নির্ধারিত সরকারি মূল্য (অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু) দুই ডলার কমানোর অনুরোধ ভারতীয় পক্ষ নাকচ করে দেওয়ায় পাথর আমদানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
চলতি মাসের পহেলা মে থেকে ভারতের মহদীপুর রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন পাথরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু টনপ্রতি ১৩ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা টানা ১৪ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
আমদানিকারকদের দাবি, আমদানি করা পাথরের ২০ থেকে ৩০ শতাংশই থাকে নিম্নমানের। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি দুই ডলার শুল্কায়ন মূল্য পরিশোধ করলে বড়ো ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। এই বর্ধিত ভ্যালু প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আমদানিতে ফিরবেন না বলেও জানান আমদানিকারকরা।
পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় সোনামসজিদ বন্দরে পুরোপুরি স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০০ ট্রাক পণ্য প্রবেশ করলেও এখন তা ১০০-এর নিচে নেমে এসেছে।
এই অচলাবস্থার কারণে বন্দরে কর্মরত প্রায় আট হাজার শ্রমিক বর্তমানে বেকার হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি সরকার বড়ো অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষের সই করা এক প্রেস নোটে জানানো হয়, সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে টনপ্রতি অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ১৫ ডলারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তাদের দাবি, পাথর রপ্তানিতে আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতি স্বীকার করে রপ্তানি করা সম্ভব নয়। তবে ১৫ ডলার মূল্যে পাথর রপ্তানিতে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না বলেও তারা জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের সিনিয়র ব্যবস্থাপক (কো-অর্ডিনেটর) টিপু সুলতান বলেন, দ্রুত এই জটিলতা সমাধান না হলে বন্দরের রাজস্ব আদায়ে ধস নামবে এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
Reporter Name 


















