শিরোনামঃ
সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনিশ্চিত ফ্রুট ব্যাগের সংকটে ধুঁকছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা ফারাক্কার প্রভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদী, ৪৯ বছরেও মেলেনি সমাধান সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার রাব্বি-সোহেল ডিবি সেজে চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আটক রাজৈরের ইশিবপুর ইউনিয়ন সাবেক ৩নং ওয়ার্ডের প্রবাসী ও যুব সমাজের উদ্যগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং নাচোলে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ও ৬ দফা দাবি উত্থাপন রাজশাহীর ৫ ফেরিঘাট মাদক পাচারের নিরাপদ রুট গোমস্তাপুরের আড্ডা রাইহোগ্রাম থেকে চোলাইমদ ও ওয়াশ উদ্ধার, আটক ১ সকাল ৯টার মধ্যে ২ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস
News Title :
সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনিশ্চিত ফ্রুট ব্যাগের সংকটে ধুঁকছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা ফারাক্কার প্রভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদী, ৪৯ বছরেও মেলেনি সমাধান সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার রাব্বি-সোহেল ডিবি সেজে চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আটক রাজৈরের ইশিবপুর ইউনিয়ন সাবেক ৩নং ওয়ার্ডের প্রবাসী ও যুব সমাজের উদ্যগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং নাচোলে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ও ৬ দফা দাবি উত্থাপন রাজশাহীর ৫ ফেরিঘাট মাদক পাচারের নিরাপদ রুট গোমস্তাপুরের আড্ডা রাইহোগ্রাম থেকে চোলাইমদ ও ওয়াশ উদ্ধার, আটক ১ সকাল ৯টার মধ্যে ২ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস

গৌড়মতি আমে স্বপ্ন বুনছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় যখন আমের মৌসুম শেষের দিকে, তখন বাজারে দেখা মেলে গৌড়মতি নামের নাবি জাতের আমের। মৌসুমের শেষে বাজারে পাওয়া যায় এই আম। নাবি জাতের আম হওয়ায় বাজার মূল্য ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। প্রতিমণ আম বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। তবে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এই আমের দাম আরও বৃদ্ধি পায়। আর এই আম চাষে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা। গৌড়মতি আমের চাষাবাদ বৃদ্ধিতে কাজ করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গৌড়মতি প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভাবিত একটি নতুন জাত, যা ২০১২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রথম পাওয়া যায়। প্রাচীন সভ্যতার অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এক সময় গৌড় বাংলার অংশ ছিল, সেই হিসেবেই ২০১৩ সালে তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মঞ্জুরুল হক প্রথম এই আমটির নাম দিয়েছিলেন গৌড়মতি। পরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি-১২ নামে গৌড়মতিকে অবমুক্ত করেন।

এছাড়া আশ্বিনা ও ল্যাংড়া এ দুই জাতের আমের মুকুলের প্রাকৃতিক পরাগায়নের মাধ্যমে নতুন জাতটির উৎপত্তি হয়েছে বলে কৃষিবিদদের ধারণা। নাবি জাতের হলেও মুকুল অন্যান্য জাতের মতো একই সময়ে আসে। এই আমটি ল্যাংড়া বা ক্ষিরসাপাত চেয়ে ১৭-২০ % বেশি মিষ্টি। গৌড়মতির ভক্ষণযোগ্য অংশ প্রায় ৯৩ ভাগ সেখানে অন্যান্য ভালো জাতের আমের ভক্ষণযোগ্য অংশ ৮০-৮২ ভাগ। আমটি পাকলে হলুদাভাবের সঙ্গে সিঁদুরে রঙের মিশ্রণে অসাধারণ দেখায়। তাছাড়া এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০০ এর মতো গাছ রোপণ করা সম্ভব এবং গাছ রোপণের দুই বছর থেকেই আম পাওয়া যায়। জীবনচক্র অনুযায়ী এই আম বাজারে থাকবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এবং পাকা শুরু হয় জুলাই মাসে।

আম চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে , গৌড়মতি আমের মিষ্টতা ও খ্যাতির কারণে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এর সুনাম। লেট ভ্যারাইটি (নাবি) বা নামলা জাতের গৌড়মতির বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। বর্তমানে উন্নত মানের গৌড়মতি এক মণের দাম ৭-৮ হাজার টাকা। অন্য মানেরগুলোর দাম ৫-৬ হাজার টাকা মণ। গত কয়েক বছরে গৌড়মতি বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা মণ দরে।

 

আমচাষি আহসান হাবিব বলেন, গৌড়মতির রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এই আম পচনশীলতার দিক থেকেও অধিক সহনীয়। গৌড়মতি আম গাছ থেকে নামানোর ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়া বিশেষ এই জাতের আমগাছের বৈশিষ্ট্য হলো- আম ধরার পর গাছের গোড়া বা কাণ্ড থেকে নতুন পাতা বের হয়। ফলে প্রতিবছরই গাছে ফল ধরে। গৌড়মতি গাছের ফল ধারণ সক্ষমতাও বেশি।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, গৌড়মতি আম গুটি ও নাবি জাতের আম। আমটি গুটি জাতের হলেও মিষ্টতা বেশি আছে। তবে বেশি বৃষ্টি হলে আম ফেটে যায়। এজন্য ব্যাগিং করা লাগে এবং বেশি বেশি স্প্রে করা লাগে। এতে অনান্য আম চাষের চেয়ে ১০ ভাগ বেশি খরচ হয়। এছাড়া মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে আসে বলে দাম বেশি পাওয়া যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াসিন আলী বলেন , দিন দিন গৌড়মতি আম চাষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এটি নাবি জাতের আম এবং মৌসুমের শেষে পাওয়া যায়। এতে চাষিরা বাজার মূল্য ভালো পায়। এই আমটির মিষ্টতা বেশি ও আঁশ পাতলা হওয়ার কারণে ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়তা আছে। এই বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ২৩৪ হেক্টর জমিতে এই আমের চাষ হচ্ছে। এছাড়া আমটির চাষাবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনিশ্চিত

গৌড়মতি আমে স্বপ্ন বুনছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা

Update Time : ১১:১৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট ২০২৫

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় যখন আমের মৌসুম শেষের দিকে, তখন বাজারে দেখা মেলে গৌড়মতি নামের নাবি জাতের আমের। মৌসুমের শেষে বাজারে পাওয়া যায় এই আম। নাবি জাতের আম হওয়ায় বাজার মূল্য ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। প্রতিমণ আম বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। তবে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এই আমের দাম আরও বৃদ্ধি পায়। আর এই আম চাষে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা। গৌড়মতি আমের চাষাবাদ বৃদ্ধিতে কাজ করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গৌড়মতি প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভাবিত একটি নতুন জাত, যা ২০১২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রথম পাওয়া যায়। প্রাচীন সভ্যতার অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এক সময় গৌড় বাংলার অংশ ছিল, সেই হিসেবেই ২০১৩ সালে তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মঞ্জুরুল হক প্রথম এই আমটির নাম দিয়েছিলেন গৌড়মতি। পরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি-১২ নামে গৌড়মতিকে অবমুক্ত করেন।

এছাড়া আশ্বিনা ও ল্যাংড়া এ দুই জাতের আমের মুকুলের প্রাকৃতিক পরাগায়নের মাধ্যমে নতুন জাতটির উৎপত্তি হয়েছে বলে কৃষিবিদদের ধারণা। নাবি জাতের হলেও মুকুল অন্যান্য জাতের মতো একই সময়ে আসে। এই আমটি ল্যাংড়া বা ক্ষিরসাপাত চেয়ে ১৭-২০ % বেশি মিষ্টি। গৌড়মতির ভক্ষণযোগ্য অংশ প্রায় ৯৩ ভাগ সেখানে অন্যান্য ভালো জাতের আমের ভক্ষণযোগ্য অংশ ৮০-৮২ ভাগ। আমটি পাকলে হলুদাভাবের সঙ্গে সিঁদুরে রঙের মিশ্রণে অসাধারণ দেখায়। তাছাড়া এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০০ এর মতো গাছ রোপণ করা সম্ভব এবং গাছ রোপণের দুই বছর থেকেই আম পাওয়া যায়। জীবনচক্র অনুযায়ী এই আম বাজারে থাকবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এবং পাকা শুরু হয় জুলাই মাসে।

আম চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে , গৌড়মতি আমের মিষ্টতা ও খ্যাতির কারণে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এর সুনাম। লেট ভ্যারাইটি (নাবি) বা নামলা জাতের গৌড়মতির বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। বর্তমানে উন্নত মানের গৌড়মতি এক মণের দাম ৭-৮ হাজার টাকা। অন্য মানেরগুলোর দাম ৫-৬ হাজার টাকা মণ। গত কয়েক বছরে গৌড়মতি বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা মণ দরে।

 

আমচাষি আহসান হাবিব বলেন, গৌড়মতির রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এই আম পচনশীলতার দিক থেকেও অধিক সহনীয়। গৌড়মতি আম গাছ থেকে নামানোর ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়া বিশেষ এই জাতের আমগাছের বৈশিষ্ট্য হলো- আম ধরার পর গাছের গোড়া বা কাণ্ড থেকে নতুন পাতা বের হয়। ফলে প্রতিবছরই গাছে ফল ধরে। গৌড়মতি গাছের ফল ধারণ সক্ষমতাও বেশি।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, গৌড়মতি আম গুটি ও নাবি জাতের আম। আমটি গুটি জাতের হলেও মিষ্টতা বেশি আছে। তবে বেশি বৃষ্টি হলে আম ফেটে যায়। এজন্য ব্যাগিং করা লাগে এবং বেশি বেশি স্প্রে করা লাগে। এতে অনান্য আম চাষের চেয়ে ১০ ভাগ বেশি খরচ হয়। এছাড়া মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে আসে বলে দাম বেশি পাওয়া যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াসিন আলী বলেন , দিন দিন গৌড়মতি আম চাষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এটি নাবি জাতের আম এবং মৌসুমের শেষে পাওয়া যায়। এতে চাষিরা বাজার মূল্য ভালো পায়। এই আমটির মিষ্টতা বেশি ও আঁশ পাতলা হওয়ার কারণে ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়তা আছে। এই বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ২৩৪ হেক্টর জমিতে এই আমের চাষ হচ্ছে। এছাড়া আমটির চাষাবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।