
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক ও কৌশলগত হস্তক্ষেপে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। একই ঘটনায় পুশইন কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিজিবি।
বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত মেইন পিলার ২২৫/৩-আর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আর কে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা কয়েকজন বেসামরিক মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে এক নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি নজরে আসার পর সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে।
বিজিবি জানিয়েছে, রোকনপুর সীমান্তে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা রোধে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এটি দ্বিতীয় পুশইনের চেষ্টা। এর আগে গত ১৩ জুন একই এলাকা দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তখনও বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
এদিকে, বিএসএফের পুশইন কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করার অভিযোগে ৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাতেই বিজিবি আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আটককৃতরা সবাই গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন— বাবুল আক্তার, এমদাদুল হক, রয়েল, আজম, আলম, আসমাউল ও মেজবাউল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















