শিরোনামঃ
পুশ-ইন ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন এর উদ্দেগে স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা ও গৌরবময় ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন । বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আটক ২১ মিথ্যা মামলা ও বিলভাতিয়া জলমহল দখলের অভিযোগে শিবগঞ্জে মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, নারীসহ দুইজন আহত; আদালতে মামলা আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেফতার নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পুশইন-পুশব্যাক কেন ও কীভাবে ঘটে? এর আইনগত ভিত্তি কী? ইতালির পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, মৌসুমের প্রথম চালানে গেল ২ টন খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো
News Title :
পুশ-ইন ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন এর উদ্দেগে স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা ও গৌরবময় ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন । বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আটক ২১ মিথ্যা মামলা ও বিলভাতিয়া জলমহল দখলের অভিযোগে শিবগঞ্জে মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, নারীসহ দুইজন আহত; আদালতে মামলা আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেফতার নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পুশইন-পুশব্যাক কেন ও কীভাবে ঘটে? এর আইনগত ভিত্তি কী? ইতালির পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, মৌসুমের প্রথম চালানে গেল ২ টন খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো

পুশইন-পুশব্যাক কেন ও কীভাবে ঘটে? এর আইনগত ভিত্তি কী?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৭:৪০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ২৯ Time View

পুশ-ইন হলো কোনো দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বারা জোরপূর্বক অন্য দেশের অভ্যন্তরে কোনো জনগোষ্ঠী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঠেলে বা প্রবেশ করিয়ে দেওয়া। আর পুশ-ব্যাক হলো আনুষ্ঠানিক আইনি বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো সন্দেহভাজন বা অভিবাসীকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বর্তমানে অবৈধ ‘পুশ-ইন’ ও বিএসএফের গুলিতে সীমান্ত হত্যার ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

পুশ-ইন কেন ও কীভাবে ঘটে?

• ঘটনার কারণ: সাধারণত রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, ধর্মীয় বা জাতিগত নিপীড়ন এবং দালাল চক্রের প্রলোভনে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার করে। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী এই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বা সন্দেহভাজনদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গিয়ে পুশ-ব্যাক বা পুশ-ইনের মতো ঘটনা ঘটায়।

• প্রক্রিয়া: কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র যাচাই, গ্রেফতারি পরোয়ানা বা প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) ছাড়া সীমান্তরক্ষীরা রাতের আঁধারে বা প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিনা নোটিশে এসব মানুষকে অন্য দেশে ঢুকিয়ে দেয়।

• আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শরণার্থী আইনে পুশ-ইন এবং পুশ-ব্যাক সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি। এর প্রধান আন্তর্জাতিক ভিত্তিগুলো হলো:

রিফুলেম না করার নীতি (Principle of Non-Refoulement): ১৯৬১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী সনদ (১৯৫১ Refugee Convention) এবং প্রোটোকল অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র এমন কোনো শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থীকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠাতে বা পুশ-ব্যাক করতে পারবে না, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

 আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন: অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার সুরক্ষা কনভেনশন (১৯৯০)-এর ২২ ধারা অনুযায়ী, আইনগত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং ব্যক্তিগত যাচাই-বাছাই ব্যতীত কোনো অভিবাসীকে গণহারে বহিষ্কার (Collective Expulsion) করা যাবে না।

• দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও রাষ্ট্রীয় আইন: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো পক্ষের নাগরিক যদি অবৈধভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করে, তবে যথাযথ কূটনৈতিক আলোচনা ও পরিচয় যাচাই-বাছাই (Verification) ছাড়া এভাবে বলপূর্বক ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিপন্থী।

বাংলাদেশ সরকার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অবৈধ পুশইন ও পুশবাকের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

পুশ-ইন ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন

পুশইন-পুশব্যাক কেন ও কীভাবে ঘটে? এর আইনগত ভিত্তি কী?

Update Time : ০৩:১৭:৪০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

পুশ-ইন হলো কোনো দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বারা জোরপূর্বক অন্য দেশের অভ্যন্তরে কোনো জনগোষ্ঠী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঠেলে বা প্রবেশ করিয়ে দেওয়া। আর পুশ-ব্যাক হলো আনুষ্ঠানিক আইনি বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো সন্দেহভাজন বা অভিবাসীকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বর্তমানে অবৈধ ‘পুশ-ইন’ ও বিএসএফের গুলিতে সীমান্ত হত্যার ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

পুশ-ইন কেন ও কীভাবে ঘটে?

• ঘটনার কারণ: সাধারণত রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, ধর্মীয় বা জাতিগত নিপীড়ন এবং দালাল চক্রের প্রলোভনে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার করে। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী এই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বা সন্দেহভাজনদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গিয়ে পুশ-ব্যাক বা পুশ-ইনের মতো ঘটনা ঘটায়।

• প্রক্রিয়া: কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র যাচাই, গ্রেফতারি পরোয়ানা বা প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) ছাড়া সীমান্তরক্ষীরা রাতের আঁধারে বা প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিনা নোটিশে এসব মানুষকে অন্য দেশে ঢুকিয়ে দেয়।

• আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শরণার্থী আইনে পুশ-ইন এবং পুশ-ব্যাক সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি। এর প্রধান আন্তর্জাতিক ভিত্তিগুলো হলো:

রিফুলেম না করার নীতি (Principle of Non-Refoulement): ১৯৬১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী সনদ (১৯৫১ Refugee Convention) এবং প্রোটোকল অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র এমন কোনো শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থীকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠাতে বা পুশ-ব্যাক করতে পারবে না, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

 আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন: অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার সুরক্ষা কনভেনশন (১৯৯০)-এর ২২ ধারা অনুযায়ী, আইনগত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং ব্যক্তিগত যাচাই-বাছাই ব্যতীত কোনো অভিবাসীকে গণহারে বহিষ্কার (Collective Expulsion) করা যাবে না।

• দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও রাষ্ট্রীয় আইন: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো পক্ষের নাগরিক যদি অবৈধভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করে, তবে যথাযথ কূটনৈতিক আলোচনা ও পরিচয় যাচাই-বাছাই (Verification) ছাড়া এভাবে বলপূর্বক ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিপন্থী।

বাংলাদেশ সরকার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অবৈধ পুশইন ও পুশবাকের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখেছে।