মহিলাকর্মীদের মাহফিলে বাধা, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১০

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার( ১৩ই মার্চ) দুপুরে মাধবপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের মধ্যে বিএনপির ৬ জন ও জামায়াতের একজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপি নেতা তরু মুন্সি অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

 

সদর থানর বেতাই পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আব্দুল আলীম জানান, শুক্রবার বাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হন।

 

মহিলা কর্মীদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন কারণ জানতে চান। এ নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে দুপক্ষের কয়েকজন আহত হন।

 

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজাহান আলী অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরাও হামলায় নেয়।

 

তিনি বলেন, জামায়াতের ওহিদুল, তাবিবুর, আব্দুল হামিদ নিলু, মনিরুল, নাসির ও প্লাবন লাঠিসোঁটা নিয়ে আগে থেকে ওঁৎ পেতে ছিল এবং সংঘর্ষের সময় বিএনপির উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের পর জামায়াতের লোকজন গান্না ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ভাঙচুর করেছে। এছাড়া তারা বিএনপি নেতা শাহজাহান, ইলিয়াস হোসেন, আবুল কালাম ও তরু মুন্সির বাড়িতে হামলা করে।

 

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছিল। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। খবর পেয়ে জামায়াতের সমর্থকরা সেখানে যায়। একপর্যায়ে বিএনপির হামলায় তাদেরও ৫/৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন। একজনের মাথা ফেটে গেছে।

 

হাবিব অভিযোগ করেন, পুরো উপজেলায় বিএনপির লোকজন জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে, সদরের কুমড়াবাড়িয়া, কাষ্টসাগরা ও নলডাঙ্গায় তাদের নেতাকর্মীদের উপর জুলুম করা হচ্ছে।

 

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আরেফিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

মহিলাকর্মীদের মাহফিলে বাধা, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১০

Update Time : ০৮:৪২:৪১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার( ১৩ই মার্চ) দুপুরে মাধবপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের মধ্যে বিএনপির ৬ জন ও জামায়াতের একজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপি নেতা তরু মুন্সি অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

 

সদর থানর বেতাই পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আব্দুল আলীম জানান, শুক্রবার বাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হন।

 

মহিলা কর্মীদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন কারণ জানতে চান। এ নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে দুপক্ষের কয়েকজন আহত হন।

 

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজাহান আলী অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরাও হামলায় নেয়।

 

তিনি বলেন, জামায়াতের ওহিদুল, তাবিবুর, আব্দুল হামিদ নিলু, মনিরুল, নাসির ও প্লাবন লাঠিসোঁটা নিয়ে আগে থেকে ওঁৎ পেতে ছিল এবং সংঘর্ষের সময় বিএনপির উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের পর জামায়াতের লোকজন গান্না ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ভাঙচুর করেছে। এছাড়া তারা বিএনপি নেতা শাহজাহান, ইলিয়াস হোসেন, আবুল কালাম ও তরু মুন্সির বাড়িতে হামলা করে।

 

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছিল। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। খবর পেয়ে জামায়াতের সমর্থকরা সেখানে যায়। একপর্যায়ে বিএনপির হামলায় তাদেরও ৫/৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন। একজনের মাথা ফেটে গেছে।

 

হাবিব অভিযোগ করেন, পুরো উপজেলায় বিএনপির লোকজন জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে, সদরের কুমড়াবাড়িয়া, কাষ্টসাগরা ও নলডাঙ্গায় তাদের নেতাকর্মীদের উপর জুলুম করা হচ্ছে।

 

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আরেফিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।