
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল লিমনের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। নাহিদা এস. বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাম্পা বে ২৮ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জামিলের দেহাবশেষ স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হিশাম আবুগারবিয়েহ নামক এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হিশাম জামিলের রুমমেট। ব্রিজের নিচে জামিলের দেহাবশেষ হিশামই রেখে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে নাহিদা বেঁচে আছেন নাকি মৃত, সেটি এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তার সন্ধান করা হচ্ছে।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যায়ের তথ্যমতে, সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশ নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিল লিমনের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
শেরিফের কার্যালয় জানায়, ব্রুস বি. ডাউনসের লেক ফরেস্ট কমিউনিটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে সোয়াট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে সন্দেহভাজন একজনকে আটকের খবর জানায় শেরিফ কার্যালয়। পরে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও এফবিআইয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।
একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ঘটনার তদন্তে থাকা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে মায়ামি কনস্যুলেট। কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি গতকাল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন (২৭) ও নাহিদা এস. বৃষ্টি (২৭)। গত ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ জানায়, এর আগে অন্তত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী। তারা দুজন বন্ধু বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন। তাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে অ্যাভালন হাইটস বুলেভার্ডে অবস্থিত তার বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি করছেন বৃষ্টি। সর্বশেষ ওই দিন তাকে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের ১২১ ইউএসএফ সুইটগাম লেনে অবস্থিত এনইএস বিল্ডিংয়ে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুজনেই বাংলাদেশের বাসিন্দা ও তারা বন্ধু।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















