শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে লণ্ডভণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফসলি জমি-আম , বেশি ক্ষতি শিবগঞ্জ উপজেলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) জেলায় হঠাৎ ঘন্টাব্যাপীর এই শিলাবৃষ্টিতে আকস্মিক ঝড়ে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। জেলার প্রাকৃতিক দুর্যোগ-পরবর্তী এক সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণে জেলার বোরো ধান, আম, শাকসবজি ও পানসহ বিভিন্ন ফসলের বিশাল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) গনমাধ্যমে পাঠানো জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরে এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের কবলে পড়ে পুরো জেলায় মোট ৭,১৩৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলাজুড়ে মোট ৫,৪৫১ হেক্টর আম বাগান শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের শিকার হয়েছে, যা বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আম ছাড়াও বোরো ধান চাষিরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন; জেলায় প্রায় ১,৫৩৬ হেক্টর বোরো ধানের জমি আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ হেক্টর শাকসবজি এবং পান বরজসহ অন্যান্য ফসলও এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ৫,৮৯৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলায় ৩৫৫ হেক্টর, নাচোল উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪৪৫ হেক্টর এবং ভোলাহাট উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হঠাৎ এই দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসলের এমন ব্যাপক ক্ষতির পর মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কৃষি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে কৃষকদের মনোবল ধরে রাখতে এবং অবশিষ্ট ফসল রক্ষার জন্য সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জেলা কৃষি অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

নাচোল উপজেলা নেজামপুর ইউনিয়নের মাসুদ হাসান বলেন, ক্ষেতের ধান এখন প্রায় পাকার সময়। শিলার আঘাতে গাছগুলো মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এই ফসল ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তায় আছি। আমাদের মতো প্রান্তিক কৃষকদের এখন ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের  সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বছরের এই সময়টাতে আম বাগানের ওপরই আমাদের সব আশা-ভরসা থাকে। ঝড়ের দাপট আর শিলাবৃষ্টিতে আমের অনেক ক্ষতি হয়েছে, যা দিনশেষে পুষিয়ে উঠা চাষীদের জন্য কঠিন হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) ইয়াসিন আলী জানান, বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে আক্রান্ত ফসলের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী উঠে এসেছে, তবে চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আগামী তিনদিনের মধ্যে চুড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য কোন বরাদ্দ আসলে তা যথাযথ ভাবে বিতরণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে লণ্ডভণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফসলি জমি-আম , বেশি ক্ষতি শিবগঞ্জ উপজেলা

Update Time : ১০:০৯:০৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) জেলায় হঠাৎ ঘন্টাব্যাপীর এই শিলাবৃষ্টিতে আকস্মিক ঝড়ে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। জেলার প্রাকৃতিক দুর্যোগ-পরবর্তী এক সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণে জেলার বোরো ধান, আম, শাকসবজি ও পানসহ বিভিন্ন ফসলের বিশাল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) গনমাধ্যমে পাঠানো জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরে এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের কবলে পড়ে পুরো জেলায় মোট ৭,১৩৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলাজুড়ে মোট ৫,৪৫১ হেক্টর আম বাগান শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের শিকার হয়েছে, যা বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আম ছাড়াও বোরো ধান চাষিরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন; জেলায় প্রায় ১,৫৩৬ হেক্টর বোরো ধানের জমি আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ হেক্টর শাকসবজি এবং পান বরজসহ অন্যান্য ফসলও এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ৫,৮৯৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলায় ৩৫৫ হেক্টর, নাচোল উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪৪৫ হেক্টর এবং ভোলাহাট উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হঠাৎ এই দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসলের এমন ব্যাপক ক্ষতির পর মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কৃষি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে কৃষকদের মনোবল ধরে রাখতে এবং অবশিষ্ট ফসল রক্ষার জন্য সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জেলা কৃষি অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

নাচোল উপজেলা নেজামপুর ইউনিয়নের মাসুদ হাসান বলেন, ক্ষেতের ধান এখন প্রায় পাকার সময়। শিলার আঘাতে গাছগুলো মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এই ফসল ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তায় আছি। আমাদের মতো প্রান্তিক কৃষকদের এখন ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের  সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বছরের এই সময়টাতে আম বাগানের ওপরই আমাদের সব আশা-ভরসা থাকে। ঝড়ের দাপট আর শিলাবৃষ্টিতে আমের অনেক ক্ষতি হয়েছে, যা দিনশেষে পুষিয়ে উঠা চাষীদের জন্য কঠিন হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) ইয়াসিন আলী জানান, বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে আক্রান্ত ফসলের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী উঠে এসেছে, তবে চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আগামী তিনদিনের মধ্যে চুড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য কোন বরাদ্দ আসলে তা যথাযথ ভাবে বিতরণ করা হবে।