ইরানে হাজারও মানুষ হত্যার পর নেতানিয়াহু বললেন, ‘পাশে আছি’

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যে ইরানে আক্রমণ চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ হত্যা করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় প্রায় দুই শতাধিক ইরানি স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এই অন্যায্য হামলার পর এবার ইরানের নাগরিকদের ‘পাশে থাকার’ ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও তার দেশ ‘আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে’। তার মতে, প্রায় দুই সপ্তাহের হামলায় ইরান বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

 

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান আর আগের সেই ইরান নয়’। তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার ফলে ইরান তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

 

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বলেন, তাদের জন্য তিনি কোনো ‘জীবন বীমা’ দেবেন না।

 

তিনি আরও দাবি করেন, খামেনি মূলত বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর ‘পুতুল’, এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার নামে বিবৃতি পড়ে শোনানো হলেও তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি।

 

এদিকে সম্প্রতি জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাস্তায় নামা ইরানিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি। তবে শেষ পর্যন্ত এটি আপনাদের সিদ্ধান্ত, আপনাদের হাতেই ভবিষ্যৎ।’

 

তার এই বক্তব্য অনেকটাই প্রতিধ্বনি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের। ট্রাম্প একাধিকবার ইরানিদের ‘জেগে ওঠা’ এবং নিজেদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, তাদের স্বাধীনতার সময় ঘনিয়ে এসেছে।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ তার দেশকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন জোট গঠনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগে এটা সম্ভব ছিল না, কিন্তু এখন আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

 

তিনি আরও দাবি করেন, ‘ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও বাসিজ বাহিনী গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে।

 

এদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি তেল টার্মিনালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

 

তবে ইরান দাবি করেছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত অঞ্চলে থাকা মার্কিন সম্পদ। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো বলছে, এসব হামলার ফলে আঞ্চলিক আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

ইরানে হাজারও মানুষ হত্যার পর নেতানিয়াহু বললেন, ‘পাশে আছি’

Update Time : ০৯:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যে ইরানে আক্রমণ চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ হত্যা করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় প্রায় দুই শতাধিক ইরানি স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এই অন্যায্য হামলার পর এবার ইরানের নাগরিকদের ‘পাশে থাকার’ ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও তার দেশ ‘আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে’। তার মতে, প্রায় দুই সপ্তাহের হামলায় ইরান বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

 

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান আর আগের সেই ইরান নয়’। তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার ফলে ইরান তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

 

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বলেন, তাদের জন্য তিনি কোনো ‘জীবন বীমা’ দেবেন না।

 

তিনি আরও দাবি করেন, খামেনি মূলত বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর ‘পুতুল’, এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার নামে বিবৃতি পড়ে শোনানো হলেও তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি।

 

এদিকে সম্প্রতি জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাস্তায় নামা ইরানিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি। তবে শেষ পর্যন্ত এটি আপনাদের সিদ্ধান্ত, আপনাদের হাতেই ভবিষ্যৎ।’

 

তার এই বক্তব্য অনেকটাই প্রতিধ্বনি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের। ট্রাম্প একাধিকবার ইরানিদের ‘জেগে ওঠা’ এবং নিজেদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, তাদের স্বাধীনতার সময় ঘনিয়ে এসেছে।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ তার দেশকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন জোট গঠনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগে এটা সম্ভব ছিল না, কিন্তু এখন আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

 

তিনি আরও দাবি করেন, ‘ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও বাসিজ বাহিনী গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে।

 

এদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি তেল টার্মিনালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

 

তবে ইরান দাবি করেছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত অঞ্চলে থাকা মার্কিন সম্পদ। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো বলছে, এসব হামলার ফলে আঞ্চলিক আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।