
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমবাগানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত ৯টার দিকে এই দুর্যোগ আঘাত হানে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা তীব্র দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। মুহূর্তেই রহনপুর পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার বোয়ালিয়া, গোমস্তাপুর, আলিনগর, পার্বতীপুর, রাধানগর ও চৌডালা ইউনিয়নের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বাতাসের প্রচণ্ড গতিবেগে বহু কাঁচা ও আধা-পাকা ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং অসংখ্য বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝড়ের সময় গাছ উপড়ে পড়ার শব্দে এবং ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় আম চাষিরা। রহনপুর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত আম চাষি আব্দুর রাজ্জাক আক্ষেপ করে বলেন, কয়েক দিন আগেই মুকুল থেকে গুটি বের হয়েছিল, ভেবেছিলেন এবার ভালো ফলন পাবেন। কিন্তু রাতের ঝড়ে অর্ধেকের বেশি গুটি ঝরে গেছে এবং বড় কয়েকটি গাছও ভেঙে পড়েছে।
আলিনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মরিয়ম বেগম। তিনি জানান, রাতে বাতাস শুরু হলে মনে হচ্ছিল ঘরবাড়ি সব উড়িয়ে নিয়ে যাবে। সন্তানের হাত ধরে কোনোমতে বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, আর চোখের সামনেই উড়ে গেছে নিজের ঘরের চাল।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যমতে, ঝড়ের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকের আলী মুন্সি বলেন, ঝড়ে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















