শিরোনামঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির বিরামপুর সীমান্তে বিপুল পরিমান যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক মার্কিন ‘গোলামির বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ নাচোল গ্রীন সিটি পার্কের প্রবেশ কুপন লটারির ড্র অনুষ্ঠিত!  পুশইনে বিএসএফকে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশিকে আটক করল বিজিবি এইচএসসি পরীক্ষা: খাতা সংরক্ষণ, টয়লেট তল্লাশিসহ যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ১৮০ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার স্বপ্ন বনাম ঐতিহ্য, মরক্কো-ব্রাজিল লড়াইয়ের অন্তরালের গল্প নেইমারকে প্রথম ম্যাচে পাবে তো ব্রাজিল? ভোলাহাটে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, আটক ৪
News Title :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির বিরামপুর সীমান্তে বিপুল পরিমান যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক মার্কিন ‘গোলামির বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ নাচোল গ্রীন সিটি পার্কের প্রবেশ কুপন লটারির ড্র অনুষ্ঠিত!  পুশইনে বিএসএফকে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশিকে আটক করল বিজিবি এইচএসসি পরীক্ষা: খাতা সংরক্ষণ, টয়লেট তল্লাশিসহ যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ১৮০ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার স্বপ্ন বনাম ঐতিহ্য, মরক্কো-ব্রাজিল লড়াইয়ের অন্তরালের গল্প নেইমারকে প্রথম ম্যাচে পাবে তো ব্রাজিল? ভোলাহাটে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, আটক ৪

এক‌ই পরিবারে চারজন প্রতিবন্ধী, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে এক‌ই পরিবারে চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

পরিবারটি উজানচর ৩নং ওয়ার্ড মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামের মো. আকবর মোল্লার একমাত্র সন্তান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মো. আতিয়ার মোল্লা (৪২), তার সহধর্মিণী মোছা. রহিমা বিবি (৩৯), তাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে আশা আক্তার (২০) ও ছেলে মো. বাদল মোল্লা (১৬)।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আকবর মোল্লার অল্প জমিতে দুটি ঘর তুলে একটিতে তিনি ও তার স্ত্রী অন্যটিতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আতিয়ার তার পরিবার নিয়ে থাকেন। তাদের থাকার ঘরটি জরাজীর্ণ, সে ঘরেও নেই কোনো আসবাবপত্র। শুধু রয়েছে একটি কাঠের চৌকি। বৃষ্টি হলেই বিভিন্নস্থানে জং ধরা টিনের চাল দিয়ে পানি ঝরে। বৃষ্টির সময় পানি ঘরের অধিকাংশ জায়গায় জমে যায়। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে তাদের সন্তান দুইজনকে নিয়েই এক‌ই চোকিতে থাকতে হয়। প্রতিবন্ধী আতিয়ার মোল্লাকে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি। এমনকি অধিকাংশ কথা বুঝতেও পারেন না। পরিবারের বাকি তিনজনের অবস্থাও এক‌ই রকম।

 

আতিয়ার মোল্লার বাবা আকবর মোল্লা কখনো নিজের অল্প কৃষি জমিতে আবার কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালান। তার সীমিত আয়ে ছেলে আতিয়ার ও তার পরিবারের তিনজনের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান। এদিকে আতিয়ার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে কোনো কাজ করতে পারে না, তাকে কেউ কাজেও নেয় না।

 

 

প্রতিবন্ধী আতিয়ারের বাবা আকবর মোল্লা বলেন, আতিয়ার জন্মের সময় থেকেই কানে একটু কম শুনতো। বড় হ‌ওয়ার পর বুঝতে পারলাম ওর বুদ্ধিও কম। আতিয়ার ছোটবেলা থেকেই মাঝে মধ্যে বাড়ির বাইরে না বলে চলে যেতো। অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি আনতে হতো। আবার অনেক সময় একা একাই চলে আসতো। সাবালক হ‌ওয়ার পর মনে করলাম ওকে বিয়ে দিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ে দিয়ে পরলাম আরেক বিপদে! যার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে আনলাম সে ওর থেকেও বেশি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ওদের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুটি সন্তান‌ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। আমার জন্য ওদের চারজনকে পালা খুব কষ্ট। এখন বয়স হয়েছে ঠিকমতো কৃষিকাজও করতে পারি না। নিজেদেরটা জোগাড় করতেও হিমশিম খাই।

 

প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম বলেন, পরিবারের চারজনের বুদ্ধি কম থাকায় কেউ ওদের কাজে নিতে চায় না। কাজ না থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিবেশীরা যা দেয়, তাই খেয়েই জীবন-যাপন পরিবারটি করছেন।

 

স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি বেশ কয়েক বছর ওই এলাকায় ইমামতি করার সুবাদে এই পরিবার সম্পর্কে সব জানি। পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী। মসজিদের পাশেই ওদের বাড়ি হ‌ওয়ায় আতিয়ারের দুটি সন্তান আমার কাছে আরবি পড়তে আসতো। বুদ্ধি কম থাকায় পড়াশোনা করতে পারেনি। পরিবারের কেউই উপার্জন করতে পারে না। মাঝে মধ্যে আমিও আমার খাবার থেকে ওদের খেতে দেই। পরিবারটির থাকার ঘরটিও জরাজীর্ণ। এখন বৃষ্টির দিন তাদের থাকার ঘরটি মেরামতের প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সরকারিভাবে পরিবারের চারজনকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি পরিবারটির সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, প্রবাসী ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, পরিবারটির বিষয়ে আমি শুনেছি। যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে জরাজীর্ণ ঘর নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হবে। তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির বিরামপুর সীমান্তে বিপুল পরিমান যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক

এক‌ই পরিবারে চারজন প্রতিবন্ধী, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন

Update Time : ১০:১১:১৩ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ২ মে ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে এক‌ই পরিবারে চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

পরিবারটি উজানচর ৩নং ওয়ার্ড মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামের মো. আকবর মোল্লার একমাত্র সন্তান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মো. আতিয়ার মোল্লা (৪২), তার সহধর্মিণী মোছা. রহিমা বিবি (৩৯), তাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে আশা আক্তার (২০) ও ছেলে মো. বাদল মোল্লা (১৬)।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আকবর মোল্লার অল্প জমিতে দুটি ঘর তুলে একটিতে তিনি ও তার স্ত্রী অন্যটিতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আতিয়ার তার পরিবার নিয়ে থাকেন। তাদের থাকার ঘরটি জরাজীর্ণ, সে ঘরেও নেই কোনো আসবাবপত্র। শুধু রয়েছে একটি কাঠের চৌকি। বৃষ্টি হলেই বিভিন্নস্থানে জং ধরা টিনের চাল দিয়ে পানি ঝরে। বৃষ্টির সময় পানি ঘরের অধিকাংশ জায়গায় জমে যায়। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে তাদের সন্তান দুইজনকে নিয়েই এক‌ই চোকিতে থাকতে হয়। প্রতিবন্ধী আতিয়ার মোল্লাকে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি। এমনকি অধিকাংশ কথা বুঝতেও পারেন না। পরিবারের বাকি তিনজনের অবস্থাও এক‌ই রকম।

 

আতিয়ার মোল্লার বাবা আকবর মোল্লা কখনো নিজের অল্প কৃষি জমিতে আবার কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালান। তার সীমিত আয়ে ছেলে আতিয়ার ও তার পরিবারের তিনজনের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান। এদিকে আতিয়ার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে কোনো কাজ করতে পারে না, তাকে কেউ কাজেও নেয় না।

 

 

প্রতিবন্ধী আতিয়ারের বাবা আকবর মোল্লা বলেন, আতিয়ার জন্মের সময় থেকেই কানে একটু কম শুনতো। বড় হ‌ওয়ার পর বুঝতে পারলাম ওর বুদ্ধিও কম। আতিয়ার ছোটবেলা থেকেই মাঝে মধ্যে বাড়ির বাইরে না বলে চলে যেতো। অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি আনতে হতো। আবার অনেক সময় একা একাই চলে আসতো। সাবালক হ‌ওয়ার পর মনে করলাম ওকে বিয়ে দিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ে দিয়ে পরলাম আরেক বিপদে! যার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে আনলাম সে ওর থেকেও বেশি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ওদের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুটি সন্তান‌ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। আমার জন্য ওদের চারজনকে পালা খুব কষ্ট। এখন বয়স হয়েছে ঠিকমতো কৃষিকাজও করতে পারি না। নিজেদেরটা জোগাড় করতেও হিমশিম খাই।

 

প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম বলেন, পরিবারের চারজনের বুদ্ধি কম থাকায় কেউ ওদের কাজে নিতে চায় না। কাজ না থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিবেশীরা যা দেয়, তাই খেয়েই জীবন-যাপন পরিবারটি করছেন।

 

স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি বেশ কয়েক বছর ওই এলাকায় ইমামতি করার সুবাদে এই পরিবার সম্পর্কে সব জানি। পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী। মসজিদের পাশেই ওদের বাড়ি হ‌ওয়ায় আতিয়ারের দুটি সন্তান আমার কাছে আরবি পড়তে আসতো। বুদ্ধি কম থাকায় পড়াশোনা করতে পারেনি। পরিবারের কেউই উপার্জন করতে পারে না। মাঝে মধ্যে আমিও আমার খাবার থেকে ওদের খেতে দেই। পরিবারটির থাকার ঘরটিও জরাজীর্ণ। এখন বৃষ্টির দিন তাদের থাকার ঘরটি মেরামতের প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সরকারিভাবে পরিবারের চারজনকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি পরিবারটির সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, প্রবাসী ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, পরিবারটির বিষয়ে আমি শুনেছি। যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে জরাজীর্ণ ঘর নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হবে। তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।