শিরোনামঃ
সৌদি আরবের খেজুর বিতরণ নিয়ে সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলীর স্পষ্টিকরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে পৌঁছেছে ৩৭ কার্টুন সরকারি খেজুর, দ্রুতই শুরু হচ্ছে বিতরণ কার্যক্রম ঈদের ছুটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যে স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফোরামের উদ্যোগে নবনির্বাচিত ৪ এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ক্যান্সার রোগী হরমুজ প্রণালিতে তিন কার্গো জাহাজে হামলা যশোরে আদালত বর্জনকে ঘিরে নতুন সংকট, ৫৪০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপ দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা, বাংলাদেশিসহ আহত ৪ বকেয়া বেতন-ঈদ বোনাসের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
News Title :
সৌদি আরবের খেজুর বিতরণ নিয়ে সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলীর স্পষ্টিকরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে পৌঁছেছে ৩৭ কার্টুন সরকারি খেজুর, দ্রুতই শুরু হচ্ছে বিতরণ কার্যক্রম ঈদের ছুটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যে স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফোরামের উদ্যোগে নবনির্বাচিত ৪ এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ক্যান্সার রোগী হরমুজ প্রণালিতে তিন কার্গো জাহাজে হামলা যশোরে আদালত বর্জনকে ঘিরে নতুন সংকট, ৫৪০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপ দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা, বাংলাদেশিসহ আহত ৪ বকেয়া বেতন-ঈদ বোনাসের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে কাপ্তাই হ্রদে ছুটে চলা হাউজবোট

 

দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙ্গামাটির বিশাল এলাকাজুড়ে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে কাপ্তাই হ্রদের বয়ে চলা। এখানকার সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়ি গ্রাম আর নীল জলের সৌন্দর্যের টানে পর্যটকদের আগ্রহ দিনদিন বেড়ে চলেছে। একসময় ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে দিনের বেলা ঘুরে বেড়ানো যেত কাপ্তাই হ্রদে। এখন পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে ধরা দিয়েছে হাউজবোট।

দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সব সুবিধা থাকায় সব বয়সী পর্যটকদের কাছে সাড়া ফেলেছে এসব হাউজবোট। বিশাল নৌকার ওপর খোলা ছাদে বসে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ যেমন করা যায়, তেমনি এসব হাউজবোটে আধুনিক বেডরুম, বেলকনি, রেস্তোরাঁসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার কমতি নেই; যেন ভাসমান হোটেল। এখন শুধু দিনের আলোতে নয়, পূর্ণিমা রাতে জ্যোৎস্নার আলোতেও ঘুরে বেড়ানো যায় কাপ্তাই হ্রদের বুকে।

সুবলং ঝরনা, ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, বনভান্তের স্মৃতি মন্দির, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়িসহ দর্শনীয় প্রায় সবগুলো স্পটে নিয়ে যাবে এসব হাউজবোট। এছাড়া পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্যেও ছুটে বেড়ায় এগুলো।

হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে থাকা ১৫টি হাউজবোট পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি হাউজবোটে আধুনিক শৌচাগার, ডাইনিং, দাবা, লুডু, কেরাম খেলার ব্যবস্থা রয়েছে। সরবরাহ করা হয় উন্নতমানের খাবার। সকালে খিচুড়ি, ডিম, চাটনি ও চা; দুপুরে ভাত, বাঁশে রান্না করা মুরগি, সবজি, ডাল ও সালাদ; বিকেলে চা, বিস্কুট বা মুড়িমাখা এবং রাতে বারবিকিউ পরিবেশন করা হয়। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী পাহাড়ি সবজি ও হ্রদের মাছও যোগ করা হয়।
উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বন্ধুদের একটি দল নিয়ে রাঙ্গামাটি বেড়াতে এসেছেন মো: সিফাত রানা । তিনি বলেন, ‌‘রাঙ্গামাটি আগেও বেড়াতে এসেছি অনেকবার। তবে এবার আসার উদ্দেশ্য হাউজবোটে ঘুরে বেড়ানো। হাউজবোটে রাত্রিযাপন এবং দিনভর ঘুরে বেড়ানো অন্যরকম এক আনন্দের। বোটে থাকা, খাওয়াসহ বিনোদনের নানা ব্যবস্থা আছে। বন্ধু, পরিবার-পরিজনসহ নিরাপদে পর্যটকরা হাউজবোটে ঘুরে বেড়াতে পারেন। হাউজবোটগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের সেবা দেওয়ার মান অত্যন্ত চমৎকার।

দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হাউজবোট।’

হাউজবোটে একদিন, এক রাত অথবা দুদিন এক রাতের প্যাকেজে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। প্যাকেজে সাধারণত ঘুমানোর জন্য ছয়টি কক্ষে ১২ জন থাকার ব্যবস্থা থাকে। ভাড়ার মধ্যে থাকে খাবার ও হ্রদজুড়ে ঘোরাঘুরি। চুক্তিভিত্তিক ভাড়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২৫ জন পর্যন্ত পর্যটক একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, ভ্রমণসুবিধাসহ এক রাত এক দিনের জন্য হাউজবোট ভাড়া পড়ে ৫০ হাজার টাকা। খাওয়া বাদ দিয়ে শুধু বোট ভাড়া ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। পুরো বোট দুদিন এক রাতের প্যাকেজে নিলে খরচ হয় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা।
হাউজবোটের চাহিদা বাড়ায় আরও নতুন নতুন হাউজবোট তৈরি হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। তাদেরই একজন বনকুসুম বড়ুয়া বাপ্পী জানান, কাপ্তাই হ্রদের হাউজবোট পর্যটকদের কাছে নতুনত্ব এনে দিয়েছে। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের একটা বড় অংশ হাউজবোটে বেড়াতে আগ্রহী থাকেন। তবে চাহিদার তুলনায় এখনো পর্যাপ্ত হাউজবোট নেই এখানে। পর্যটকদের চাহিদা থাকায় এখনো নতুন নতুন হাউজবোট তৈরি হচ্ছে। আমার নিজের একটি নতুন বোট তৈরির কাজ চলছে। আরও একজন উদ্যোক্তা একটি বড় হাউজবোট তৈরি করেছেন। এখন ডেকারেশনের কাজ চলছে। শিগগির পর্যটকদের জন্য এটি উদ্বোধন করা হবে।’

হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাপ্পী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে বর্তমানে ১৫টি হাউজবোট রয়েছে। আমরা পর্যটকদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। খুব শিগগির আরও কয়েকটি বোট নামবে কাপ্তাই হ্রদে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাঙ্গামাটির পর্যটনের বিকাশে হাউজবোট ভালো ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে তদারকি করার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই এখানে। ম্যানেজমেন্টের অভাব রয়েছে। এখানকার পর্যটন খাত ন্যস্ত জেলা পরিষদের কাছে। আর কাপ্তাই হ্রদের মালিক জেলা প্রশাসন। তদারকি ও সহযোগিতা পেলে এই খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

সৌদি আরবের খেজুর বিতরণ নিয়ে সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলীর স্পষ্টিকরণ

পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে কাপ্তাই হ্রদে ছুটে চলা হাউজবোট

Update Time : ১০:০৫:৫৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

 

দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙ্গামাটির বিশাল এলাকাজুড়ে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে কাপ্তাই হ্রদের বয়ে চলা। এখানকার সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়ি গ্রাম আর নীল জলের সৌন্দর্যের টানে পর্যটকদের আগ্রহ দিনদিন বেড়ে চলেছে। একসময় ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে দিনের বেলা ঘুরে বেড়ানো যেত কাপ্তাই হ্রদে। এখন পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে ধরা দিয়েছে হাউজবোট।

দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সব সুবিধা থাকায় সব বয়সী পর্যটকদের কাছে সাড়া ফেলেছে এসব হাউজবোট। বিশাল নৌকার ওপর খোলা ছাদে বসে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ যেমন করা যায়, তেমনি এসব হাউজবোটে আধুনিক বেডরুম, বেলকনি, রেস্তোরাঁসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার কমতি নেই; যেন ভাসমান হোটেল। এখন শুধু দিনের আলোতে নয়, পূর্ণিমা রাতে জ্যোৎস্নার আলোতেও ঘুরে বেড়ানো যায় কাপ্তাই হ্রদের বুকে।

সুবলং ঝরনা, ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, বনভান্তের স্মৃতি মন্দির, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়িসহ দর্শনীয় প্রায় সবগুলো স্পটে নিয়ে যাবে এসব হাউজবোট। এছাড়া পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্যেও ছুটে বেড়ায় এগুলো।

হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে থাকা ১৫টি হাউজবোট পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি হাউজবোটে আধুনিক শৌচাগার, ডাইনিং, দাবা, লুডু, কেরাম খেলার ব্যবস্থা রয়েছে। সরবরাহ করা হয় উন্নতমানের খাবার। সকালে খিচুড়ি, ডিম, চাটনি ও চা; দুপুরে ভাত, বাঁশে রান্না করা মুরগি, সবজি, ডাল ও সালাদ; বিকেলে চা, বিস্কুট বা মুড়িমাখা এবং রাতে বারবিকিউ পরিবেশন করা হয়। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী পাহাড়ি সবজি ও হ্রদের মাছও যোগ করা হয়।
উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বন্ধুদের একটি দল নিয়ে রাঙ্গামাটি বেড়াতে এসেছেন মো: সিফাত রানা । তিনি বলেন, ‌‘রাঙ্গামাটি আগেও বেড়াতে এসেছি অনেকবার। তবে এবার আসার উদ্দেশ্য হাউজবোটে ঘুরে বেড়ানো। হাউজবোটে রাত্রিযাপন এবং দিনভর ঘুরে বেড়ানো অন্যরকম এক আনন্দের। বোটে থাকা, খাওয়াসহ বিনোদনের নানা ব্যবস্থা আছে। বন্ধু, পরিবার-পরিজনসহ নিরাপদে পর্যটকরা হাউজবোটে ঘুরে বেড়াতে পারেন। হাউজবোটগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের সেবা দেওয়ার মান অত্যন্ত চমৎকার।

দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হাউজবোট।’

হাউজবোটে একদিন, এক রাত অথবা দুদিন এক রাতের প্যাকেজে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। প্যাকেজে সাধারণত ঘুমানোর জন্য ছয়টি কক্ষে ১২ জন থাকার ব্যবস্থা থাকে। ভাড়ার মধ্যে থাকে খাবার ও হ্রদজুড়ে ঘোরাঘুরি। চুক্তিভিত্তিক ভাড়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২৫ জন পর্যন্ত পর্যটক একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, ভ্রমণসুবিধাসহ এক রাত এক দিনের জন্য হাউজবোট ভাড়া পড়ে ৫০ হাজার টাকা। খাওয়া বাদ দিয়ে শুধু বোট ভাড়া ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। পুরো বোট দুদিন এক রাতের প্যাকেজে নিলে খরচ হয় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা।
হাউজবোটের চাহিদা বাড়ায় আরও নতুন নতুন হাউজবোট তৈরি হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। তাদেরই একজন বনকুসুম বড়ুয়া বাপ্পী জানান, কাপ্তাই হ্রদের হাউজবোট পর্যটকদের কাছে নতুনত্ব এনে দিয়েছে। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের একটা বড় অংশ হাউজবোটে বেড়াতে আগ্রহী থাকেন। তবে চাহিদার তুলনায় এখনো পর্যাপ্ত হাউজবোট নেই এখানে। পর্যটকদের চাহিদা থাকায় এখনো নতুন নতুন হাউজবোট তৈরি হচ্ছে। আমার নিজের একটি নতুন বোট তৈরির কাজ চলছে। আরও একজন উদ্যোক্তা একটি বড় হাউজবোট তৈরি করেছেন। এখন ডেকারেশনের কাজ চলছে। শিগগির পর্যটকদের জন্য এটি উদ্বোধন করা হবে।’

হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাপ্পী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে বর্তমানে ১৫টি হাউজবোট রয়েছে। আমরা পর্যটকদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। খুব শিগগির আরও কয়েকটি বোট নামবে কাপ্তাই হ্রদে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাঙ্গামাটির পর্যটনের বিকাশে হাউজবোট ভালো ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে তদারকি করার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই এখানে। ম্যানেজমেন্টের অভাব রয়েছে। এখানকার পর্যটন খাত ন্যস্ত জেলা পরিষদের কাছে। আর কাপ্তাই হ্রদের মালিক জেলা প্রশাসন। তদারকি ও সহযোগিতা পেলে এই খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।