আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাধারণত মে-জুন মাসে ফলন হয় সুস্বাদু আমের। তবে মৌসুমের অনেক আগেই, অর্থাৎ অসময়ে গাছে ঝুলছে পাকা আম—এমনই দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে নাচোল উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা রুবেল হক এর বাগানে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি আর সাহসী উদ্যোগে অসময়ে আম ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রুবেল হক জানান, তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারিফোর’ জাতের আমের চারা রোপণ করেছেন। এই জাতটি বিশেষ পরিচর্যা ও নিয়ন্ত্রিত ফুল আসার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বছরে দুইবার ফল দেয়। তিনি গত বছরের নভেম্বর মাসে ফুল আসার ব্যবস্থা করেন, আর চলতি নভেম্বরেই তাঁর বাগানে পাকা আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
কৃষি উদ্যোক্তা রুবেল হক বলেন, “প্রথমে অনেকেই বিশ্বাস করেননি। সবাই ভেবেছিল এটা সম্ভব নয়। কিন্তু এখন আমার বাগানে ঝুলছে কেজি প্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়া আম। এটা কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনা।”
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারিফোর জাতের এই আম চাষে সময়মতো ছাঁটাই, হরমোন প্রয়োগ, ও সেচ ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রযুক্তি প্রয়োগে এটি মৌসুমের বাইরে ফলন দিতে সক্ষম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, “রুবেল হক এলাকার জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। অসময়ে আম চাষে তিনি সফল হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য অন্য কৃষকদের অনুপ্রেরণা দেবে।”
এখন স্থানীয় পর্যায়ে অনেক কৃষক রুবেল হকের বাগান পরিদর্শনে আসছেন। তারা তার কাছ থেকে বারিফোর জাতের কলম ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
রুবেল হকের লক্ষ্য, আগামী দুই বছরের মধ্যে আরো ৫০ বিঘা জমিতে অসময়ের আম চাষ সম্প্রসারণ করা এবং দেশজুড়ে এর প্রচলন ঘটানো।
বারিফোর আম সাধারণত মৌসুমে চাষ হলেও, অসময়ে ফলনের জন্য বারি-৪, কাটিমন বা অন্য কোনো বারোমাসি জাতের আম চাষ করা যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক অসময়ে আম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এই চাষ আরো বাড়বে বলে মনে করেন কৃষিবিদরা
চাঁপাই জনপদ ডেস্ক 

















