
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার শিক্ষকের মামলা না নিয়ে উল্টো হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকলে জেলা শহরের বাতেন খাঁর মোড়স্থ একটি অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন কোচিং শিক্ষক নাসিম হেলালী। ভুক্তভোগী পরিবার এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
সংবাদ লিখিত বক্তব্যে কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও শিক্ষক হেলালী অভিযোগ করে বলেন, জেলা শহরের হেলালপুর এলাকায় একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে আমার। সেখানে দফায় দফায় গিয়ে চাঁদা দাবি ও মেয়েদের ইভটিজিং করে এলাকার বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের লিডার সাইফুল্লাহ আল সিফাত, শিহাব আলীসহ তার সহযোগীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ও ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাতে বাজার করে বটতলাহাট থেকে ফেরার পথে ধাপাপাড়া এলাকায় পথরোধ করে মটরসাইকেল ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরো বলেন, রাতের অন্ধকারে আমাকে প্রথমে মাওড়িপাড়া সুজা উদ্দিনের গলিতে ও পরে ধাপাপাড়া খড়ির ঘরের মধ্যে নিয়ে লাঠিসোটা, রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে পথচারী ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্বার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
কোচিং শিক্ষক নাসিম হেলালী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে ৩ ঘন্টা বসিয়ে রেখে ঘটনার বিবরণ শুনে মামলা নেয়ার জন্য সেকেন্ড অফিসারকে দিয়ে এন্ট্রি করিয়ে নেয়ার জন্য বলেন ওসি মতিউর রহমান। কিন্তু সেকেন্ড অফিসার পরদিন আসতে বলেন। গতকাল সোমবার (১৮ আগস্ট) থানায় গেলে ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি মামলা করলে ওদেরকে (কিশোর গ্যাং) দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করাবো।
সংবাদ সম্মেলনে আহত শিক্ষক নাসিম হেলালীর বাবা আবু বাক্কার বলেন, আমার ছেলে নির্মমভাবে মার হয়েছে। রাতের অন্ধকারে যেভাবে আক্রমণ হয়েছিল, তাতে আমার ছেলের মৃত্যুও হতে পারতো। আমি কি এর বিচার পাব না? ওসি মতিউর রহমান নিজে বলেছে, আপনারা মামলা করলে আপনাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হবে।
এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান কোচিং শিক্ষক নাসিম হেলালীর পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষকের বাবা আবু বাক্কার, ভাই আবু রাইহানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মামলা না নিয়ে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান। তিনি জানান, বাদীর দেয়া এজাহারে ভুল ছিল। তা সংশোধন করে পরে দেয়ার জন্য বলা হলেও তারা আর যোগাযোগ করেনি।
থানায় মামলা না নেয়ার কোন সুযোগ নেয়, উল্লেখ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াসিম ফিরোজ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














