
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সালিস চলাকালীন সময়ে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনজীবী ও তাদের সহকারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (১৭ মে) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে এই মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে, মারামারির ঘটনা চলমান অবস্থায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান তুষারকে আটকে রেখে নির্যাতন করে আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা। এসময় তুষারের আইডি কার্ড কেড়ে হেনস্তা ও মারধর করা হয়। এমনকি ঘটনাস্থলে গেলে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে লাঞ্চিত করা হয় পুলিশের বিশেষ শাখার এক সদস্যকেও।
মারামারিতে আহত ও তাদের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে সালিস চলছিল আইনজীবী সমিতির মধ্যে। এসময় বিরোধের জেরে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে দুইটি পক্ষ। এসময় লাঠি ও রড নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। ঘটনা চলাকালীন অবস্থায় যাওয়ার পর ভিডিও ধারন করতে নিষেধ করলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সাংবাদিক তুষার। পরে তাকে আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে টেনেহিঁচড়ে দ্বোতলায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তা ও লাঞ্চিত করা হয়।
পরে কোর্ট পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় কয়েকজন সাংবাদিক অবরুদ্ধ তুষারকে নিতে গিয়েও হেনস্তার শিকার হন। এসময় বন্ধ দরজা খোলার অনুরোধ জানালে সাংবাদিকদের সাথে ভেতর থেকে উর্দ্ধতপূর্ন আচরণ করেন কয়েকজন আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা।
এবিষয়ে সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান তুষার বলেন, উপরে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে আমার মুঠোফোন ও আইডি কার্ড কেড়ে নেয়া হয়। এসময় আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসলে মোবাইল ও কার্ড ফেরত দেয়া হয়। এসময় আমাকে নিতে আসা সিনিয়র সাংবাদিকদেরকেও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি-ভয়ভীতি দেখান কয়েকজন আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় থাকার কথা জানিয়ে সিনিয়র সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান সাংবাদিক তুষার।
মারামারির ঘটনায় আহত ৪ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে জানান, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. জামিলা। ৪ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ।
প্রতিবেদন লেখার সময়েও (রাত ৯টা) আইনজীবী সমিতির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতির কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ মুঠোফোনে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় কোন পক্ষই মামলা করেনি। মামলা দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় রাত ৯টা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
Reporter Name 


















