শিরোনামঃ
আমতলী চা বাগানের ব্যবস্থাপককে জড়িয়ে অপপ্রচার, বাগানবাসীর প্রতিবাদ বাহুবলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে সেচ বিপর্যয়, আশঙ্কায় খাদ্য উৎপাদন বজ্রপাতের ঝুঁকিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি ভিত্তিক শিল্পে নয়া দিগন্ত বানিজ্যিক ভাবে শুকনা আনারস উৎপাদন চরের পতিত জমিতে সোনালি ফসল: চিনাবাদাম চাষে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অর্থনীতি শিবগঞ্জের আদি চমচমকে জিআই স্বীকৃতির দাবি জোরালো চাঁদাবাজি বন্ধ ও শ্রমিক অধিকার রক্ষায় দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দিন অর্থের টানাপোড়েনে থমকে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্ট হাসপাতাল
News Title :
আমতলী চা বাগানের ব্যবস্থাপককে জড়িয়ে অপপ্রচার, বাগানবাসীর প্রতিবাদ বাহুবলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে সেচ বিপর্যয়, আশঙ্কায় খাদ্য উৎপাদন বজ্রপাতের ঝুঁকিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি ভিত্তিক শিল্পে নয়া দিগন্ত বানিজ্যিক ভাবে শুকনা আনারস উৎপাদন চরের পতিত জমিতে সোনালি ফসল: চিনাবাদাম চাষে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অর্থনীতি শিবগঞ্জের আদি চমচমকে জিআই স্বীকৃতির দাবি জোরালো চাঁদাবাজি বন্ধ ও শ্রমিক অধিকার রক্ষায় দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দিন অর্থের টানাপোড়েনে থমকে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্ট হাসপাতাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাষিদের আশা দেখাচ্ছে আখের গুড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে আখ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন আখচাষিরা। কয়েক বছর আগেও বাজার সংকটের কারণে জেলার অনেক কৃষক আখচাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে চলতি মৌসুমে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।

 

 

 

অন্যদিকে এটি ধীরে ধীরে সাদা চিনির বিকল্প হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। সচেতন মানুষজন চা, শরবত, পায়েস, মিষ্টান্নসহ নানা খাদ্যপণ্যে প্রাকৃতিক গুড়ের ব্যবহার করছে। এতে জেলার আখশিল্পে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।

 

 

 

শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল রহমান গত ১৫ বছর ধরে আখচাষ করছেন। তিনি জানান, মাঝখানে কয়েক বছর টানা লোকসানের কারণে আখচাষ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এ বছর দুই বিঘা জমিতে আখচাষ করে নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। এবার ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো। এমন অবস্থা থাকলে আবার আখচাষ বাড়াবো, বলেন তিনি।

 

 

 

শুধু শফিকুল রহমান নন, জেলার আরও অনেক কৃষক একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সময়মতো বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। মাঠজুড়ে সবুজ আখের সমারোহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে। অনেক কৃষক নতুন করে আখচাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

 

 

 

পিঠালিতলার গুড় প্রস্তুতকারক শহিদুল ইসলাম জানান, বাজার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে গুড়ের চাহিদা বেড়েছে। আগে মূলত খোলা গুড় বিক্রি হতো, এখন মান নিয়ন্ত্রণ ও আকর্ষণীয় প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে গুড় বাজারজাত করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাউডার গুড় ও ঝোলা গুড় শহরের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

 

 

 

বর্তমানে শিবগঞ্জ পৌরসভার গুড় বাজারে খোলা গুড়ের দাম প্রতিকেজি ৮০-১০০ টাকা। অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত পাউডার বা ঝোলা গুড় বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়। মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের কারণে দামের পার্থক্য থাকলেও ক্রেতাদের আগ্রহ কমছে না। বরং শহরকেন্দ্রিক বাজারে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

 

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ আখ ও গুড় শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রক্রিয়াজাত গুড় সরবরাহ হচ্ছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে, ফলে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

 

 

 

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী জানান, আখচাষিদের কারিগরি পরামর্শ, উন্নত জাতের আখ ও প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হবে। তার মতে, পরিকল্পিত সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমগুলোতে আখচাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

 

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আখভিত্তিক পণ্যের বহুমুখীকরণ যেমন ঝোলা গুড়, পাউডার গুড় ও পাটালি, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বাজার, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই হবে এই পুনর্জাগরণের মূল চ্যালেঞ্জ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

আমতলী চা বাগানের ব্যবস্থাপককে জড়িয়ে অপপ্রচার, বাগানবাসীর প্রতিবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাষিদের আশা দেখাচ্ছে আখের গুড়

Update Time : ১২:০২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে আখ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন আখচাষিরা। কয়েক বছর আগেও বাজার সংকটের কারণে জেলার অনেক কৃষক আখচাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে চলতি মৌসুমে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।

 

 

 

অন্যদিকে এটি ধীরে ধীরে সাদা চিনির বিকল্প হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। সচেতন মানুষজন চা, শরবত, পায়েস, মিষ্টান্নসহ নানা খাদ্যপণ্যে প্রাকৃতিক গুড়ের ব্যবহার করছে। এতে জেলার আখশিল্পে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।

 

 

 

শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল রহমান গত ১৫ বছর ধরে আখচাষ করছেন। তিনি জানান, মাঝখানে কয়েক বছর টানা লোকসানের কারণে আখচাষ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এ বছর দুই বিঘা জমিতে আখচাষ করে নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। এবার ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো। এমন অবস্থা থাকলে আবার আখচাষ বাড়াবো, বলেন তিনি।

 

 

 

শুধু শফিকুল রহমান নন, জেলার আরও অনেক কৃষক একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সময়মতো বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। মাঠজুড়ে সবুজ আখের সমারোহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে। অনেক কৃষক নতুন করে আখচাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

 

 

 

পিঠালিতলার গুড় প্রস্তুতকারক শহিদুল ইসলাম জানান, বাজার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে গুড়ের চাহিদা বেড়েছে। আগে মূলত খোলা গুড় বিক্রি হতো, এখন মান নিয়ন্ত্রণ ও আকর্ষণীয় প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে গুড় বাজারজাত করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাউডার গুড় ও ঝোলা গুড় শহরের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

 

 

 

বর্তমানে শিবগঞ্জ পৌরসভার গুড় বাজারে খোলা গুড়ের দাম প্রতিকেজি ৮০-১০০ টাকা। অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত পাউডার বা ঝোলা গুড় বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়। মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের কারণে দামের পার্থক্য থাকলেও ক্রেতাদের আগ্রহ কমছে না। বরং শহরকেন্দ্রিক বাজারে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

 

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ আখ ও গুড় শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রক্রিয়াজাত গুড় সরবরাহ হচ্ছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে, ফলে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

 

 

 

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী জানান, আখচাষিদের কারিগরি পরামর্শ, উন্নত জাতের আখ ও প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হবে। তার মতে, পরিকল্পিত সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমগুলোতে আখচাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

 

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আখভিত্তিক পণ্যের বহুমুখীকরণ যেমন ঝোলা গুড়, পাউডার গুড় ও পাটালি, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বাজার, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই হবে এই পুনর্জাগরণের মূল চ্যালেঞ্জ।