
দীর্ঘ ৩২ বছর পর অবশেষে সোনামসজিদ স্থলবন্দর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুরু হয়েছে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। এগিয়ে চলছে মাটি খনন করে বালু ও পাথর ভরাটের কাজ। নির্মাণ করা হচ্ছে ড্রেন কালভার্ট। ৬.২ মিটার সড়ক প্রসস্থ হয়ে এখন হবে ১০.৩ মিটার, বাড়বে ৪.১ মিটার। ৩১ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের মধ্যে রানিহাটি বাজার ও ছত্রাজিতপুর বাজারে হচ্ছে ৪ লেন। এছাড়াও জমি অধিগ্রহণ করে কমানো হবে সড়কের বাঁক।
সড়ক প্রশস্তকরণের আওতায় রসুলপুর মোড়, পাইলিং মোড়ে থাকবে ইন্টারসেকশন।প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে শুধু সড়ক নির্মাণেই ব্যয় হবে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন পর সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হওয়ার সন্তুষ্ট স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও চালকরা। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি থাকলেও সোনামসজিদ স্থলবন্দরের এই সড়ক সম্প্রসারণের ফলে কমবে ভোগান্তি। এছাড়াও আমদানি-রপ্তানিতে বাড়বে গতি ও সড়ক দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে।কাজের শুরুতে গতি থাকলেও সড়কের দুই ধারে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে বিভিন্ন জায়গায় থমকে আছে বাকি কাজ। এমনি সড়কে খাল-গর্ত থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
তাদের দাবি, দ্রুত বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করে কাজের গতি বাড়ানোর। এর আগে ২০২২ সালের ২৯ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ সড়কে ট্রাকচাপায় মুনিরা খাতুন নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়। ওই দিন সড়কটি চারলেনে উন্নীত করার দাবিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয়রা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। এই দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে একাধিকবার মানববন্ধনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।পথচারী সাজিদুর রহমান বলেন, পেশাগত কারণে এই সড়কটি আমি প্রতিদিন ব্যবহার করি। চোখের সামনে অনেক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখি প্রতিনিয়ত। ৩০ বছর আগে তৈরি হওয়া সড়কে প্রত্যেক দিন যানবাহনের পরিমাণ বাড়ছে। সেই হিসেবে সড়কটি সম্প্রসারণ করা আমাদের প্রাণের দাবি। অবশেষে চার লেন না হলেও সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মেসবাহুল হক জানান, সড়ক সম্প্রসারনের কাজের গতি বেশ ভালো। কিন্তু বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে বেশ কিছু জায়গায় দেখলাম কাজ শুরুর পরেও তা আটকে আছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উচিত দ্রুত সময়ে মধ্যে খুঁটিগুলো অপসারণ করে ফাঁকা করা।স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী তারেক রহমান ফরহাদ আলী বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। স্থলবন্দরের পণ্যবোঝাই করে বিভিন্ন পরিবহন দূরদূরান্তে যায়। প্রায় সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। এতে প্রাণহানিসহ বহু মানুষ পঙ্গু হয়ে গেছেন। জনবহুল সড়কটি প্রশস্ত করার কোন বিকল্প ছিল না। এই দাবি পূরণ হওয়ায় আমরা খুশি।’স্থানীয় কলেজ শিক্ষক খলিল আহমেদ বলেন, ‘সড়কটি চারলেন হওয়া উচিত। প্রশস্তের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় না করে পরিকল্পিতভাবে একবারই চারলেনের জন্য টাকা খরচ করলে এখানকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।
তবুও যে প্রশস্তকরণের কাজ হচ্ছে, তা অনেক উপকার হবে। কাজের গতিও ভালো। কিন্তু বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর কাজের গতি না থাকায় কাজের গতি থমকে গেছে।বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত গতিতে অপসারণের উদ্যোগের কথা জানান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নেসকোর কর্মকর্তারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ফজলুর রহমান বলেন, দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু মেইল লাইন হওয়ায় সপ্তাহে ছুটির দুই দিন করে লোডশেডিং সংযোগ বন্ধ রেখে কাজ করা হচ্ছে। তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও পুরোদমে নতুন লাইন প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে।অন্যদিকে, প্রকল্পের প্রথম ৪ মাসে ১০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হওয়ার আশা সড়ক বিভাগের। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. নাহিনুর রহমান বলেন, জাতীয় সড়ক হিসেবে খুবই ব্যস্ততম একটি সড়ক সোনামসজিদ স্থলবন্দর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কটি। বিপুল সংখ্যক পণ্য বাহী ট্রাক এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে। সেই দিক থেকে এই কাজ সম্পন্ন হলে সড়কে যানবহন চলাচলে গতি ফিরবে, যানজট কমবে।
প্রকৌশলী নাহিনুর রহমান জানান, সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১ দশমিক ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত। গোটা সড়কটি চারলেন হচ্ছে না। তবে আপাতত রানীহাটি ও ছত্রাজিতপুর বাজারের এলাকাটি শুধু চারলেন স্থাপন করা হবে। এরইমধ্যে বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এই সড়কের কাজের ফলে ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানিতে গতি ফিরবে বলেও মনে করেন তিনি।৩১ কিলোমিটার সড়ক ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় ৪২ মিটার কালভার্ট, ২২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ ও ৫.৫ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ২০২৬ সালের জুন মাসে শেষ হবে প্রকল্পের মেয়াদ।
মোঃ সিফাত রানা চাঁপাই জনপদ 

















