
বিয়ে হয়েছে প্রায় ৩ বছর আগে, রয়েছে ১১ মাসের এক ছেলে সন্তান। কিন্তু স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি না দিয়ে উল্টো স্ত্রী-শশুরের নামে করেছেন দুটি মামলা। এমনকি স্ত্রীর করা মামলায় সমাধানের শর্তে আদালতে জামিন নিয়ে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে এক স্ত্রী থাকার ওর আরেকটা বিয়ে করে। এমনভাবে তিনটি বিয়ে করেছেন ভুয়া ডাক্তার ইমরোজ আহমেদ সারুফ। এবার তার আগের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ইমরোজ আহমেদ সারুফ সদর উপজেলার রানিহাটি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরহাট হাজীপাড়া গ্রামের ফিরোজ কবিরের ছেলে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদের ঘনিষ্ঠ সহচর।
বাদিপক্ষের আইনজীবী সাহিন কাদির বলেন, সারাবসন তোহরার করা মামলায় আসামী ইমরোজ আহমেদ সারুফ সমাধান করে নেয়ার শর্তে জামিন নেয়। পরবর্তী সমাধান না করে উল্টো দুটি মিথ্যা মামলা দেয়। আদালতে আমরা বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হওয়ায় তার আগের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে আমরা ইমরোজ আহমেদ সারুফ ও ১১ মাসের সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করে পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত ও নায্য অধিকার বুঝিতে দেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছি৷ এছাড়াও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের জন্য আদালতে ইমরোজ আহমেদ সারুফের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, এতদিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের ঘনিষ্ঠ সহচর হওয়ায় তার দাপট দেখিয়ে ওই নারী ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখালেও গত প্রায় ১ বছর ধরে মামলার ভয় দেখাচ্ছিল স্বামী ইমরোজ। ওই নারীকেই হয়রানী করতে দুটি মামলা করেছিল ইমরোজ।
মামলার বাদি সারাবান তোহরার বলেন, সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে আমাকেসহ একের পর এক তিনটি বিয়ে করেছেন ইমরোজ আহমেদ সারুফ। বিয়ের পর ভালোভাবেই সংসার চলছিল আমাদের। কিন্তু ৪ মাসের সন্তান থাকা অবস্থায় স্ত্রী সন্তানের স্বীকৃতি চাইতে গেলেই অস্বীকার করে যোগাযোগ বন্ধ করেন ইমরোজ। উল্টো দিতে থাকে নানারকম ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি। প্রথম বউকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল ইমরোজ আহমেদ সারুফ। একইভাবে এক মেয়েসহ দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে আমাকে বিয়ে করে।
সারাবান তোহরার বাবা আবু বাক্কার বলেন, আমাকে যখন মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দেয় ইমরোজ আহমেদ সারুফ, তখন তাকে না করে দেয়। কিন্তু নানারকম কায়দা কানুন করে মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করে মেয়েকে। বিয়ের পর দফায় দফায় কাবিননামা তৈরির কথা বলতে গেলেই মেয়েকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো। আমাকে তুলে নিয়ে এসে হত্যা করে মহানন্দা ব্রীজের নিচে মরদেহ ফেলে দেয়ার হুমকি দেয় জামাই ইমরোজ আহমেদ সারুফ। স্ত্রী ও সন্তানের দাবিতে আদালতে মামলা করতে গেলে উল্টো আমাদের নামেই দুটি মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছে।
প্রসঙ্গত, সারাবান তোহরার ১১ মাসের ছেলের জন্ম নিবন্ধন ও টিকা কার্ডেও বাবার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ইমরোজের নাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















