শিরোনামঃ

নতুন বাজেট আজ থেকে কার্যকর, কী থাকছে নতুন অর্থবছরে?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৮:২১ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ Time View

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আজ (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হয়েছে। তিন সপ্তাহের বিস্তৃত আলোচনা, বিরোধী দলের সমালোচনা এবং একাধিক সংশোধনীর পর মঙ্গলবার কণ্ঠভোটে বাজেটটি অনুমোদন দেয় সংসদ।

এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পরে টানা তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ, করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়।

বাজেটের সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে বাজেটে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার ভাষ্য, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখে সরকার একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার তিন বছর মেয়াদি রোডম্যাপ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাজেট অনুমোদনের আগে সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়, যার মাধ্যমে কর ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন সংশোধনী কার্যকর করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা এবং ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ জমার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার। এছাড়া আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। ব্যবসায়ী মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি নতুন কর ও শুল্ক প্রত্যাহার বা শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হলেও তুলনামূলক বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলেও কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সম্পন্ন হয়।

নতুন বাজেটের আকার আগের অর্থবছরের ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। সরকার মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Categories

নতুন বাজেট আজ থেকে কার্যকর, কী থাকছে নতুন অর্থবছরে?

Update Time : ০৭:৫৮:২১ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আজ (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হয়েছে। তিন সপ্তাহের বিস্তৃত আলোচনা, বিরোধী দলের সমালোচনা এবং একাধিক সংশোধনীর পর মঙ্গলবার কণ্ঠভোটে বাজেটটি অনুমোদন দেয় সংসদ।

এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পরে টানা তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ, করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়।

বাজেটের সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে বাজেটে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার ভাষ্য, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখে সরকার একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার তিন বছর মেয়াদি রোডম্যাপ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাজেট অনুমোদনের আগে সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়, যার মাধ্যমে কর ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন সংশোধনী কার্যকর করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা এবং ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ জমার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার। এছাড়া আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। ব্যবসায়ী মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি নতুন কর ও শুল্ক প্রত্যাহার বা শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হলেও তুলনামূলক বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলেও কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সম্পন্ন হয়।

নতুন বাজেটের আকার আগের অর্থবছরের ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। সরকার মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।