শিরোনামঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্লিনিকে শেয়ার থাকায় জামায়াতপন্থী ৫ চিকিৎসককে বদলি চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদী থেকে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দায় গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্র সহ ৩ জন নিখোঁজ খামেনীর জানাযায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের এমপি ড. কেরামত আলী লাঠিসোঁটা নিয়ে পদ্মা নদী পাহারায় গ্রামবাসী, “জীবন দিব কিন্তু বালু তুলতে দিব না” ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৪ বাজেটে হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে হঠাৎ ‘অস্বাভাবিক’ বাড়তি বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি নির্দেশনা নবম পে স্কেল: কারা পাচ্ছেন সুবিধা, কারা থাকছেন অপেক্ষায়
News Title :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্লিনিকে শেয়ার থাকায় জামায়াতপন্থী ৫ চিকিৎসককে বদলি চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদী থেকে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দায় গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্র সহ ৩ জন নিখোঁজ খামেনীর জানাযায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের এমপি ড. কেরামত আলী লাঠিসোঁটা নিয়ে পদ্মা নদী পাহারায় গ্রামবাসী, “জীবন দিব কিন্তু বালু তুলতে দিব না” ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৪ বাজেটে হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে হঠাৎ ‘অস্বাভাবিক’ বাড়তি বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি নির্দেশনা নবম পে স্কেল: কারা পাচ্ছেন সুবিধা, কারা থাকছেন অপেক্ষায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩৯:২৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১৯ Time View

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরবাসীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও প্রকট। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের কষ্ট এখন চরমে। কয়েকদিন পরে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের ফলে তাদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে জেলা শহরসহ গ্রামগঞ্জে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। একবার গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। একটু গরম বেশি হলেই লোডশেডিং সর্বোচ্চ রূপ নিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। গ্রামীণ বা শহরতলীর এলাকায় দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

পৌর এলাকার নয়াগোলা গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ জনি জানান, তাদের গ্রামে শনিবার (২৭ জুন) রাত ১২টার দিকে বিদ্যুৎ গিয়ে আড়াই ঘণ্টা পর এসেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে ঘুম হয় না, দিনেও শান্তি নেই। দিনে লোডশেডিং মেনে নেওয়া গেলেও গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে কষ্টে পড়তে হয়।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার চরমোহনপুর গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘কয়েক দিন পরই পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। দিনে-রাতে মিলে ৮-১০ বার লোডশেডিং হচ্ছে। কোনো একটি বিষয় নিয়ে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়।’’

এদিকে জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী ভর্তি থাকছে। প্রতিটি রোগীর সঙ্গে স্বজন থাকায় এবং বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। গাদাগাদির কারণে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। স্বজনরা নিজেরা ঘেমে একাকার হলেও নিরূপায় হয়ে হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় সময় ও স্থানভেদে তারা এই লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিক্রয়-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম জানান, জেলা শহরে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৩২ মেগাওয়াট কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট।

 

 

নেসকো বিক্রয়-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদিকুল ইসলাম জানান, রবিবার (২৮ জুন) বিকাল ৩টায় চাহিদা ১৩.৭ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে মাত্র ৬.২ মেগাওয়াট। ফলে ৭.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে, যা এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

একই পরিস্থিতি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, শনিবার (২৭ জুন) রাতের পিক-আওয়ারে তাদের চাহিদা ৮৫ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫৭ মেগাওয়াট। তবে তারা আশাবাদী, খুব দ্রুতই জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্লিনিকে শেয়ার থাকায় জামায়াতপন্থী ৫ চিকিৎসককে বদলি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং

Update Time : ০৯:৩৯:২৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরবাসীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও প্রকট। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের কষ্ট এখন চরমে। কয়েকদিন পরে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের ফলে তাদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে জেলা শহরসহ গ্রামগঞ্জে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। একবার গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। একটু গরম বেশি হলেই লোডশেডিং সর্বোচ্চ রূপ নিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। গ্রামীণ বা শহরতলীর এলাকায় দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

পৌর এলাকার নয়াগোলা গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ জনি জানান, তাদের গ্রামে শনিবার (২৭ জুন) রাত ১২টার দিকে বিদ্যুৎ গিয়ে আড়াই ঘণ্টা পর এসেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে ঘুম হয় না, দিনেও শান্তি নেই। দিনে লোডশেডিং মেনে নেওয়া গেলেও গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে কষ্টে পড়তে হয়।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার চরমোহনপুর গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘কয়েক দিন পরই পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। দিনে-রাতে মিলে ৮-১০ বার লোডশেডিং হচ্ছে। কোনো একটি বিষয় নিয়ে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়।’’

এদিকে জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী ভর্তি থাকছে। প্রতিটি রোগীর সঙ্গে স্বজন থাকায় এবং বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। গাদাগাদির কারণে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। স্বজনরা নিজেরা ঘেমে একাকার হলেও নিরূপায় হয়ে হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় সময় ও স্থানভেদে তারা এই লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিক্রয়-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম জানান, জেলা শহরে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৩২ মেগাওয়াট কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট।

 

 

নেসকো বিক্রয়-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদিকুল ইসলাম জানান, রবিবার (২৮ জুন) বিকাল ৩টায় চাহিদা ১৩.৭ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে মাত্র ৬.২ মেগাওয়াট। ফলে ৭.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে, যা এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

একই পরিস্থিতি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, শনিবার (২৭ জুন) রাতের পিক-আওয়ারে তাদের চাহিদা ৮৫ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫৭ মেগাওয়াট। তবে তারা আশাবাদী, খুব দ্রুতই জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।