ফাগুনের শেষে রাজধানীতে একপশলা ঝুম বৃষ্টি

বসন্তে হঠাৎ ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। শুক্রবার ছুটির দিনের সন্ধ্যায় রাজধানীবাসীর অনেকের ঈদের কেনাকাটার পরিকল্পনায় ভাটা পড়েছে বৃষ্টিতে। আবার অনেকের মনে ঘরে থাকার স্বস্তি জুগিয়েছে এই একপশলা বৃষ্টি। আবার এই বৃষ্টির মধ্যেও অনেককে বের হতে হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে, পানি জমা রাস্তায় নাকাল হয়ে দিনশেষের কাজ সারছেন তারা।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বৃষ্টি।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

ফাল্গুন মাস প্রায় শেষ। চৈত্রের আর বাকি ২ দিন। ইতোমধ্যেই রাজধানীসহ সারা দেশেই গরম বাড়তে শুরু করেছে। যদিও আজ আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে বজ্রসহ বৃষ্টির। ছুটির দিনে আজ (শুক্রবার) সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। কখনো কখনো সেই মেঘের মধ্যে রোদ দেখা গেছে।

বিকালের দিকে মেঘের বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়; সেই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল।

ফাগুনের এই বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে নগরবাসীর মধ্যে। তবে কিছুটা ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীর। কারণ, আর কিছু দিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উৎসব ঘিরে মানুষজন কেনাকাটা করছেন। ইফতারের পর কেনাকাটায় বের হয়ে বৃষ্টির কারণে একটু ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। তবে এই বৃষ্টি স্বস্তির পাশাপাশি পরিবেশ রোমাঞ্চকরও করে তুলেছে। রাত ৮.৩০ মিনিটের দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আগেই। আজ (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে প্রথম দিন রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দ্বিতীয় দিনেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) তৃতীয় দিনে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার (১৬ মার্চ) চতুর্থ ও মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পঞ্চম দিনে দেশের সব বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে; তবে পঞ্চম দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে আজ সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫৭ শতাংশ। এ সময় ঢাকায় পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল, যা দমকা আকারে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আগামীকাল ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৯ মিনিটে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

ফাগুনের শেষে রাজধানীতে একপশলা ঝুম বৃষ্টি

Update Time : ১০:০৫:২৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বসন্তে হঠাৎ ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। শুক্রবার ছুটির দিনের সন্ধ্যায় রাজধানীবাসীর অনেকের ঈদের কেনাকাটার পরিকল্পনায় ভাটা পড়েছে বৃষ্টিতে। আবার অনেকের মনে ঘরে থাকার স্বস্তি জুগিয়েছে এই একপশলা বৃষ্টি। আবার এই বৃষ্টির মধ্যেও অনেককে বের হতে হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে, পানি জমা রাস্তায় নাকাল হয়ে দিনশেষের কাজ সারছেন তারা।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বৃষ্টি।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

ফাল্গুন মাস প্রায় শেষ। চৈত্রের আর বাকি ২ দিন। ইতোমধ্যেই রাজধানীসহ সারা দেশেই গরম বাড়তে শুরু করেছে। যদিও আজ আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে বজ্রসহ বৃষ্টির। ছুটির দিনে আজ (শুক্রবার) সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। কখনো কখনো সেই মেঘের মধ্যে রোদ দেখা গেছে।

বিকালের দিকে মেঘের বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়; সেই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল।

ফাগুনের এই বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে নগরবাসীর মধ্যে। তবে কিছুটা ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীর। কারণ, আর কিছু দিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উৎসব ঘিরে মানুষজন কেনাকাটা করছেন। ইফতারের পর কেনাকাটায় বের হয়ে বৃষ্টির কারণে একটু ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। তবে এই বৃষ্টি স্বস্তির পাশাপাশি পরিবেশ রোমাঞ্চকরও করে তুলেছে। রাত ৮.৩০ মিনিটের দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আগেই। আজ (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে প্রথম দিন রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দ্বিতীয় দিনেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) তৃতীয় দিনে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার (১৬ মার্চ) চতুর্থ ও মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পঞ্চম দিনে দেশের সব বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে; তবে পঞ্চম দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে আজ সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫৭ শতাংশ। এ সময় ঢাকায় পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল, যা দমকা আকারে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আগামীকাল ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৯ মিনিটে।