শিরোনামঃ
নতুন দাবি নিয়ে ফের রাস্তায় শিক্ষার্থীরা বিশ্বকাপে ৬০ বছর পর আবারও মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-স্পেন নাচোলে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত  চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালু উত্তোলনে এলাকাবাসীর বাধা, যন্ত্রাংশ ভাঙচুর শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, সায়েন্সল্যাবে যান চলাচল স্বাভাবিক কমতে শুরু করেছে তিস্তার পানি, কমেছে বন্যার শঙ্কা বিশ্বকাপে ‘৯ কার্ড’ দেখানো রেফারি পেলেন আর্জেন্টিনা ম্যাচের দায়িত্ব এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি ভুল প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে রথযাত্রা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা
News Title :
নতুন দাবি নিয়ে ফের রাস্তায় শিক্ষার্থীরা বিশ্বকাপে ৬০ বছর পর আবারও মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-স্পেন নাচোলে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত  চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালু উত্তোলনে এলাকাবাসীর বাধা, যন্ত্রাংশ ভাঙচুর শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, সায়েন্সল্যাবে যান চলাচল স্বাভাবিক কমতে শুরু করেছে তিস্তার পানি, কমেছে বন্যার শঙ্কা বিশ্বকাপে ‘৯ কার্ড’ দেখানো রেফারি পেলেন আর্জেন্টিনা ম্যাচের দায়িত্ব এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি ভুল প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে রথযাত্রা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা

রক্তদানে ৩৬ বার, মানবসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত: বিসিএস কৃষি ক্যাডার তোহিদুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩২:৫৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ৯৭ Time View

নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে মানবসেবার জন্য উৎসর্গ করা মানুষের সংখ্যা সমাজে খুব বেশি নয়। তেমনই এক ব্যতিক্রমী মানবিক ব্যক্তিত্ব মো: তোহিদুর রহমান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শুরু হয়েছিল তাঁর রক্তদানের যাত্রা, যা আজ ১৩ বছরে এসে পৌঁছেছে ৩৬ বার স্বেচ্ছায় রক্তদানের গৌরবময় মাইলফলকে। ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, জীবনের আঠারো বছরে পদার্পণের দিনেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা জিহাদ নামের মাত্র চার বছরের এক মুমূর্ষু শিশুকে রক্ত দিয়ে মানবতার এই পথচলা শুরু করেন তিনি। সেই সময় এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করাও ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। মানুষ রক্ত দিতে ভয় পেত, অনেকেই অনুরোধ পাওয়ার পর যোগাযোগ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতেন। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও থেমে থাকেননি তোহিদুর রহমান। হাসপাতালের বারান্দায় দিনের পর দিন কাটিয়ে তিনি রাজশাহীতে গড়ে তোলেন “মানুষ মানুষের জন্য” নামে একটি মানবিক সংগঠন। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল অসহায় রোগীদের জন্য রক্তদাতা সংগ্রহ এবং মানুষের মাঝে রক্তদানের সচেতনতা তৈরি করা। ২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি যুক্ত হন দেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন “বাঁধন”-এর সঙ্গে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে বাঁধন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সফলতার সঙ্গে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্ত সংগ্রহ, রক্তদান ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০১৯ সালে কর্মজীবনের প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় চলে এলেও তাঁর মানবিক কার্যক্রম থেমে থাকেনি। বিসিএস প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়মিত রক্তদান চালিয়ে গেছেন এবং আশপাশের মানুষদের রক্তদানে উৎসাহিত করেছেন। বর্তমানে তিনি ৪১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিসিএস কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবসেবাকেও তিনি জীবনের অন্যতম বড় দায়িত্ব হিসেবে ধারণ করে চলেছেন। ১৩ বছরে ৩৬ বার রক্তদানের এই অসাধারণ অর্জন শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি মানবতার প্রতি এক গভীর অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি। মো: তোহিদুর রহমানের এই অনুপ্রেরণামূলক জীবনগল্প আজকের যুবসমাজের কাছে মানবতা, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ সেবার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে মানবসেবার জন্য উৎসর্গ করা মানুষের সংখ্যা সমাজে খুব বেশি নয়। তেমনই এক ব্যতিক্রমী মানবিক ব্যক্তিত্ব মো: তোহিদুর রহমান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শুরু হয়েছিল তাঁর রক্তদানের যাত্রা, যা আজ ১৩ বছরে এসে পৌঁছেছে ৩৬ বার স্বেচ্ছায় রক্তদানের গৌরবময় মাইলফলকে।
২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, জীবনের আঠারো বছরে পদার্পণের দিনেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা জিহাদ নামের মাত্র চার বছরের এক মুমূর্ষু শিশুকে রক্ত দিয়ে মানবতার এই পথচলা শুরু করেন তিনি। সেই সময় এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করাও ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। মানুষ রক্ত দিতে ভয় পেত, অনেকেই অনুরোধ পাওয়ার পর যোগাযোগ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতেন।
এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও থেমে থাকেননি তোহিদুর রহমান। হাসপাতালের বারান্দায় দিনের পর দিন কাটিয়ে তিনি রাজশাহীতে গড়ে তোলেন “মানুষ মানুষের জন্য” নামে একটি মানবিক সংগঠন। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল অসহায় রোগীদের জন্য রক্তদাতা সংগ্রহ এবং মানুষের মাঝে রক্তদানের সচেতনতা তৈরি করা।
২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি যুক্ত হন দেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন “বাঁধন”-এর সঙ্গে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে বাঁধন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সফলতার সঙ্গে।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্ত সংগ্রহ, রক্তদান ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০১৯ সালে কর্মজীবনের প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় চলে এলেও তাঁর মানবিক কার্যক্রম থেমে থাকেনি। বিসিএস প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়মিত রক্তদান চালিয়ে গেছেন এবং আশপাশের মানুষদের রক্তদানে উৎসাহিত করেছেন।
বর্তমানে তিনি ৪১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিসিএস কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবসেবাকেও তিনি জীবনের অন্যতম বড় দায়িত্ব হিসেবে ধারণ করে চলেছেন।
১৩ বছরে ৩৬ বার রক্তদানের এই অসাধারণ অর্জন শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি মানবতার প্রতি এক গভীর অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি। মো: তোহিদুর রহমানের এই অনুপ্রেরণামূলক জীবনগল্প আজকের যুবসমাজের কাছে মানবতা, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ সেবার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

নতুন দাবি নিয়ে ফের রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

রক্তদানে ৩৬ বার, মানবসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত: বিসিএস কৃষি ক্যাডার তোহিদুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প

Update Time : ১১:৩২:৫৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে মানবসেবার জন্য উৎসর্গ করা মানুষের সংখ্যা সমাজে খুব বেশি নয়। তেমনই এক ব্যতিক্রমী মানবিক ব্যক্তিত্ব মো: তোহিদুর রহমান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শুরু হয়েছিল তাঁর রক্তদানের যাত্রা, যা আজ ১৩ বছরে এসে পৌঁছেছে ৩৬ বার স্বেচ্ছায় রক্তদানের গৌরবময় মাইলফলকে।
২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, জীবনের আঠারো বছরে পদার্পণের দিনেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা জিহাদ নামের মাত্র চার বছরের এক মুমূর্ষু শিশুকে রক্ত দিয়ে মানবতার এই পথচলা শুরু করেন তিনি। সেই সময় এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করাও ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। মানুষ রক্ত দিতে ভয় পেত, অনেকেই অনুরোধ পাওয়ার পর যোগাযোগ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতেন।
এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও থেমে থাকেননি তোহিদুর রহমান। হাসপাতালের বারান্দায় দিনের পর দিন কাটিয়ে তিনি রাজশাহীতে গড়ে তোলেন “মানুষ মানুষের জন্য” নামে একটি মানবিক সংগঠন। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল অসহায় রোগীদের জন্য রক্তদাতা সংগ্রহ এবং মানুষের মাঝে রক্তদানের সচেতনতা তৈরি করা।
২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি যুক্ত হন দেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন “বাঁধন”-এর সঙ্গে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে বাঁধন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সফলতার সঙ্গে।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্ত সংগ্রহ, রক্তদান ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০১৯ সালে কর্মজীবনের প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় চলে এলেও তাঁর মানবিক কার্যক্রম থেমে থাকেনি। বিসিএস প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়মিত রক্তদান চালিয়ে গেছেন এবং আশপাশের মানুষদের রক্তদানে উৎসাহিত করেছেন।
বর্তমানে তিনি ৪১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিসিএস কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবসেবাকেও তিনি জীবনের অন্যতম বড় দায়িত্ব হিসেবে ধারণ করে চলেছেন।
১৩ বছরে ৩৬ বার রক্তদানের এই অসাধারণ অর্জন শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি মানবতার প্রতি এক গভীর অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি। মো: তোহিদুর রহমানের এই অনুপ্রেরণামূলক জীবনগল্প আজকের যুবসমাজের কাছে মানবতা, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ সেবার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।