শিরোনামঃ
নাচোলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ওজন কমানোর ৮ সহজ অভ্যাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রধানের প্রতি বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা মদ্রিচকে নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নাসীরুদ্দীনের হুঁশিয়ারি হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ৬২ মণের ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’ ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভূমিমন্ত্রী বেনাপোল বন্দরের সংকট নিরসনে কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে জামায়াত নেতার বৈঠক আওয়ামী লীগ কোনো বাংলাদেশপন্থী দল নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ, দৈনিক রাজস্ব ক্ষতি ২ কোটি টাকা
News Title :
নাচোলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ওজন কমানোর ৮ সহজ অভ্যাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রধানের প্রতি বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা মদ্রিচকে নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নাসীরুদ্দীনের হুঁশিয়ারি হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ৬২ মণের ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’ ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভূমিমন্ত্রী বেনাপোল বন্দরের সংকট নিরসনে কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে জামায়াত নেতার বৈঠক আওয়ামী লীগ কোনো বাংলাদেশপন্থী দল নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ, দৈনিক রাজস্ব ক্ষতি ২ কোটি টাকা

হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ৬২ মণের ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪২:১০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ২১ Time View

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পশুপালনের অঞ্চল কিশোরগঞ্জের খামারগুলো। এরমধ্যে জেলার নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের উজানহাটি গ্রামে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালনপালন করা ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’ নামের দুটি বিশাল আকৃতির ষাঁড় এখন পুরো অঞ্চলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ কেজি (৬২ মণ) ওজনের এই দানবাকৃতির গরুর জুটিকে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ খামারির বাড়িতে ভিড় করছেন।

এই বিশাল সাফল্যের পেছনে রয়েছে ১৭ বছর আগে স্বামী হারানো হোসনা বেগম এবং তার ভাই সাইদুর রহমানের দীর্ঘ তিন বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মায়া। বিধবা হওয়ার পর থেকে ভাইয়ের সংসারে থেকে জীবনের সঙ্গে লড়াই করা হোসনা বেগম এই অবলা প্রাণীদের নিজের সন্তানের মতো যত্নে বড় করেছেন। এই উদ্যোগটি কেবল তাদের সংসারের অভাব দূর করার হাতিয়ারই নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে সঠিক সুযোগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরাও ডেইরি খাতের মাধ্যমে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারেন।

বর্তমান বাজারে কৃত্রিম উপায়ে বা ক্ষতিকর ইনজেকশন দিয়ে পশু মোটাতাজাকরণের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও, খামারি সাইদুর রহমান সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন।

তিনি জানান, ‘মোস্তাক’ (১৩০০ কেজি) এবং ‘কামিনী’কে (১২০০ কেজি) কোনো ধরনের ফিড বা রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় ঘাস, খড়, ভুট্টা ভাঙা, ভুসি ও খৈল খাইয়ে বড় করা হয়েছে।

বর্তমানে দুই ভাইয়ের খাবারের পেছনে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তারা আশা করছেন, সৌখিন ক্রেতাদের কাছে এই নিরাপদ ও সুস্থ পশুর সঠিক মূল্যায়ন হবে এবং তারা জুটিটি অন্তত ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। এই অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান।উজানহাটি গ্রামে সাইদুর রহমানের বাড়ির আঙিনা এখন দর্শনার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সবখানেই এখন রাজত্ব করছে ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’। তরুণ দর্শনার্থীরা গরু দুটির সাথে ছবি ও ভিডিও তুলে ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউবে শেয়ার করছেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হচ্ছে। দর্শনার্থীরা জানান, ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত এবং এত সুঠাম ও চঞ্চল গরু তারা সচরাচর দেখেননি।

নিকলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান খামারিদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, হাওর অঞ্চলে দেশীয় খাবার সহজলভ্য হওয়ায় এখানকার পশুর মাংসের মান ও স্বাস্থ্য চমৎকার হয়। ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’কে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে লালনপালন করা হয়েছে, যা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে একটি আদর্শ উদাহরণ। আমরা খামারিদের এই ধরনের টেকসই পশুপালনে সব ধরনের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

নাচোলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ৬২ মণের ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’

Update Time : ০৯:৪২:১০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পশুপালনের অঞ্চল কিশোরগঞ্জের খামারগুলো। এরমধ্যে জেলার নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের উজানহাটি গ্রামে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালনপালন করা ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’ নামের দুটি বিশাল আকৃতির ষাঁড় এখন পুরো অঞ্চলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ কেজি (৬২ মণ) ওজনের এই দানবাকৃতির গরুর জুটিকে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ খামারির বাড়িতে ভিড় করছেন।

এই বিশাল সাফল্যের পেছনে রয়েছে ১৭ বছর আগে স্বামী হারানো হোসনা বেগম এবং তার ভাই সাইদুর রহমানের দীর্ঘ তিন বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মায়া। বিধবা হওয়ার পর থেকে ভাইয়ের সংসারে থেকে জীবনের সঙ্গে লড়াই করা হোসনা বেগম এই অবলা প্রাণীদের নিজের সন্তানের মতো যত্নে বড় করেছেন। এই উদ্যোগটি কেবল তাদের সংসারের অভাব দূর করার হাতিয়ারই নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে সঠিক সুযোগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরাও ডেইরি খাতের মাধ্যমে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারেন।

বর্তমান বাজারে কৃত্রিম উপায়ে বা ক্ষতিকর ইনজেকশন দিয়ে পশু মোটাতাজাকরণের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও, খামারি সাইদুর রহমান সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন।

তিনি জানান, ‘মোস্তাক’ (১৩০০ কেজি) এবং ‘কামিনী’কে (১২০০ কেজি) কোনো ধরনের ফিড বা রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় ঘাস, খড়, ভুট্টা ভাঙা, ভুসি ও খৈল খাইয়ে বড় করা হয়েছে।

বর্তমানে দুই ভাইয়ের খাবারের পেছনে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তারা আশা করছেন, সৌখিন ক্রেতাদের কাছে এই নিরাপদ ও সুস্থ পশুর সঠিক মূল্যায়ন হবে এবং তারা জুটিটি অন্তত ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। এই অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান।উজানহাটি গ্রামে সাইদুর রহমানের বাড়ির আঙিনা এখন দর্শনার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সবখানেই এখন রাজত্ব করছে ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’। তরুণ দর্শনার্থীরা গরু দুটির সাথে ছবি ও ভিডিও তুলে ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউবে শেয়ার করছেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হচ্ছে। দর্শনার্থীরা জানান, ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত এবং এত সুঠাম ও চঞ্চল গরু তারা সচরাচর দেখেননি।

নিকলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান খামারিদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, হাওর অঞ্চলে দেশীয় খাবার সহজলভ্য হওয়ায় এখানকার পশুর মাংসের মান ও স্বাস্থ্য চমৎকার হয়। ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’কে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে লালনপালন করা হয়েছে, যা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে একটি আদর্শ উদাহরণ। আমরা খামারিদের এই ধরনের টেকসই পশুপালনে সব ধরনের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।