
ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে লুকা মদ্রিচের নাম অনেক আগেই কিংবদন্তির জায়গায়। এবার সেই অধ্যায়ে যোগ হতে যাচ্ছে আরেকটি বড় মাইলফলক। ৪০ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডারকে রেখে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ক্রোয়েশিয়া। সব ঠিক থাকলে এটি হবে মদ্রিচের পঞ্চম বিশ্বকাপ।
২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল মদ্রিচের। এরপর ক্রোয়েশিয়ার সোনালি প্রজন্মের নেতা হয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া হয়েছিল তৃতীয়। এবার উত্তর আমেরিকার আসরে নামলে দেশের হয়ে ২০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকও ছুঁতে পারেন ১৯৬ ম্যাচ খেলা মদ্রিচ।
এপ্রিল মাসে গালের হাড় ভেঙে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল মদ্রিচকে। সেই চোটের কারণে মিলানের মৌসুমের শেষ ভাগে খেলতে পারেননি ২০১৮ ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মিডফিল্ডার। তবে বিশ্বকাপের আগে তার ফিট হয়ে ওঠার আশা ছিল, আর সেই আস্থার প্রতিফলনই দেখা গেল জ্লাতকো দালিচের দলে।
মদ্রিচের সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভারও কম নয় ক্রোয়েশিয়া দলে। পিএসভি ফরোয়ার্ড ইভান পেরিসিচ আছেন তার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে। ম্যানচেস্টার সিটির মাতেও কোভাচিচ ও হফেনহাইম ফরোয়ার্ড আন্দ্রেই ক্রামারিচসহ দলে আছেন শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা চার ফুটবলার।
চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার ইয়োশকো গভারদিওলও। জানুয়ারিতে ডান পায়ের শিন বোনে চিড় ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচার হয়েছিল তার। ১৩ মে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে মাঠে ফিরে বিশ্বকাপ দলে জায়গা ধরে রেখেছেন ২৪ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডার।
দলের বড় আলোচনার জায়গা আক্রমণভাগ। দিনামো জাগরেবের ফরোয়ার্ড দিয়ন দ্রেনা বেলিও ৪৭ ম্যাচে ৩৮ গোল করেও ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পাননি, তাকে রাখা হয়েছে রিজার্ভ তালিকায়। তার জায়গায় মূল দলে আছেন এফসি ডালাসের পেতার মুসা। এমএলএসে ১৩ ম্যাচে ১২ গোল করা এই স্ট্রাইকার লিওনেল মেসির সমান গোল করেছেন, লিগে তার চেয়ে বেশি গোল কেবল শিকাগো ফায়ারের হুগো কুইপার্সের।
২০২২ বিশ্বকাপ দলের সদস্য লাভরো মায়েরও মূল দলে নেই। উলফসবুর্গের এই মিডফিল্ডারকে রাখা হয়েছে রিজার্ভ তালিকায়। মার্চে ক্রোয়েশিয়া দলে থাকলেও মৌসুমের শেষ ভাগে বুন্দেসলিগায় তিনি মূলত বদলি হিসেবে খেলেছেন।
বিশ্বকাপের আগে বেলজিয়াম ও স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ক্রোয়েশিয়া। মূল আসরে তাদের গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, ঘানা ও পানামা।
ক্রোয়েশিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ দল
গোলরক্ষক: ডমিনিক লিভাকোভিচ, ডমিনিক কোটারস্কি, আইভর পান্দুর।
ডিফেন্ডার: ইয়োশকো গভারদিওল, দুয়ে চালেতা-চার, ইয়োসিপ সুতালো, ইয়োসিপ স্তানিসিচ, মারিন পংগ্রাচিচ, মার্টিন এরলিচ, লুকা ভুসকোভিচ।
মিডফিল্ডার: লুকা মদ্রিচ, মাতেও কোভাচিচ, মারিও পাশালিচ, নিকোলা ভ্লাসিচ, লুকা সুচিচ, মার্টিন বাতুরিনা, ক্রিস্টিয়ান ইয়াকিচ, পেতার সুচিচ, নিকোলা মোরো, টনি ফ্রুক।
ফরোয়ার্ড: ইভান পেরিসিচ, আন্দ্রেই ক্রামারিচ, আন্তে বুদিমির, মার্কো পাশালিচ, পেতার মুসা, ইগর মাতানোভিচ।
Reporter Name 


















