শিরোনামঃ
২৫০ শয্যার হাসপাতালে দেওয়া হতো ১০০ রোগীর খাবার, সমাধান করলেন এমপি দখলকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন খাস জমি উদ্ধার করা হবে: ভূমিমন্ত্রী আইসিসি থেকে সুখবর পেল বাংলাদেশ ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে ১৩ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে কাল বিক্ষোভ সমাবেশ আম বিক্রেতাদের জন্য আম কার্ড দেয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার রাজশাহীতে ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর,আগুনে পুড়ল ২টি ডাম্প ট্রাক বিক্ষুব্ধ জনতা আমতলী চা বাগান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭,৫০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ শিবগঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগে প্রেমিক-প্রেমিকা আটক, এলাকায় তোলপাড়।
News Title :
২৫০ শয্যার হাসপাতালে দেওয়া হতো ১০০ রোগীর খাবার, সমাধান করলেন এমপি দখলকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন খাস জমি উদ্ধার করা হবে: ভূমিমন্ত্রী আইসিসি থেকে সুখবর পেল বাংলাদেশ ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে ১৩ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে কাল বিক্ষোভ সমাবেশ আম বিক্রেতাদের জন্য আম কার্ড দেয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার রাজশাহীতে ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর,আগুনে পুড়ল ২টি ডাম্প ট্রাক বিক্ষুব্ধ জনতা আমতলী চা বাগান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭,৫০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ শিবগঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগে প্রেমিক-প্রেমিকা আটক, এলাকায় তোলপাড়।

আমতলী চা বাগান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪২:৩১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ২৯ Time View

আমতলী চা বাগান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আমতলী চা বাগানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে বাগানটির সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এদিকে, তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে শ্রমিক ও স্টাফদের সঙ্গে আচরণগত বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট আমতলী চা বাগানের তৎকালীন ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমান শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। ওই অঙ্গীকারনামায় তিনি শ্রমিক ও স্টাফদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ না করা, শ্রমিকদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে। পরবর্তীতে তাকে ম্যানেজার পদ থেকে সরিয়ে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সহকারী ব্যবস্থাপককে ম্যানেজার পদে উন্নীত করা হয়।

সূত্র মতে, এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে কাজী মাসুদুর রহমান ২০২০ সালে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, আচরণগত সমস্যার কারণে কর্মক্ষেত্রে একাধিকবার বিতর্কে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাকরি ছাড়ার পর অন্য কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া, আমতলী কোম্পানির সঙ্গে দেনাপাওনা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বাগান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও চলমান আইনি বিরোধের জেরে বর্তমানে একটি মহলের সহায়তায় তিনি আমতলী চা বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহেল রানা পাঠান ও কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন। এতে বাগানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আমতলী চা বাগানের হেড ফ্যাক্টরী ক্লার্ক এম. কায়ছার বলেন,
“বাগানের উৎপাদন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান ব্যবস্থাপক অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।”

এ বিষয়ে আমতলী চা বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহেল রানা পাঠান বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাগানের উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, চা বাগানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে কাজী মাসুদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মন্তব্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা আইনি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

২৫০ শয্যার হাসপাতালে দেওয়া হতো ১০০ রোগীর খাবার, সমাধান করলেন এমপি

আমতলী চা বাগান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক

Update Time : ০১:৪২:৩১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আমতলী চা বাগানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে বাগানটির সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এদিকে, তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে শ্রমিক ও স্টাফদের সঙ্গে আচরণগত বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট আমতলী চা বাগানের তৎকালীন ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমান শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। ওই অঙ্গীকারনামায় তিনি শ্রমিক ও স্টাফদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ না করা, শ্রমিকদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে। পরবর্তীতে তাকে ম্যানেজার পদ থেকে সরিয়ে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সহকারী ব্যবস্থাপককে ম্যানেজার পদে উন্নীত করা হয়।

সূত্র মতে, এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে কাজী মাসুদুর রহমান ২০২০ সালে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, আচরণগত সমস্যার কারণে কর্মক্ষেত্রে একাধিকবার বিতর্কে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাকরি ছাড়ার পর অন্য কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া, আমতলী কোম্পানির সঙ্গে দেনাপাওনা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বাগান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও চলমান আইনি বিরোধের জেরে বর্তমানে একটি মহলের সহায়তায় তিনি আমতলী চা বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহেল রানা পাঠান ও কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন। এতে বাগানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আমতলী চা বাগানের হেড ফ্যাক্টরী ক্লার্ক এম. কায়ছার বলেন,
“বাগানের উৎপাদন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান ব্যবস্থাপক অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।”

এ বিষয়ে আমতলী চা বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহেল রানা পাঠান বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাগানের উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, চা বাগানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে কাজী মাসুদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মন্তব্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা আইনি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি।