
গত চার মাস ধরে বাংলাদেশের প্রযুক্তি অঙ্গনে একটি নাম রহস্য আর রোমাঞ্চের জন্ম দিয়েছে মো. নাহিদ আলম। নিভৃতে নিজের গবেষণাগারে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন এই তরুণ। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে তার মেধার দ্যুতি এখন কাঁপন ধরিয়েছে বিশ্বের বাঘা বাঘা প্রযুক্তি জায়ান্টদের সদর দপ্তরে। প্রযুক্তি পাড়ায় এখন একটিই প্রশ্ন কে এই নাহিদ আলম এবং কেন তাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত মাতামাতি?
এক দুর্ভেদ্য আভিজাত্যের আড়ালে ৯ মাসের নীরবতা
নাহিদ আলমকে নিয়ে সাধারণের মধ্যে এক ধরণের দুর্ভেদ্য দেয়াল থাকলেও তার উদ্ভাবিত ‘ডি-ব্রিজ’ প্রকল্পটি এখন বিশ্বজুড়ে গবেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি দেশের আইনি সেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় আনতে তিনি একাই গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত পূর্ণাঙ্গ মাধ্যম ‘লেক্সগ্লোবাল বিডি’।
কিন্তু এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ লড়াই। গত ৯ মাস তিনি নিজেকে এক ধরণের কৌশলগত নীরবতায় আবদ্ধ রেখেছিলেন, যা নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজ এটি স্পষ্ট যে, সেই নীরবতা ছিল বিশ্বজয়ের প্রস্তুতির এক গভীর রণকৌশল।
নাহিদ আলমের এই সাফল্যের গল্পটি কেবল প্রাপ্তির নয়, বরং ত্যাগেরও। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নিজের উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সাথে আপোষ না করার কারণে তিনি দেশের প্রায় ২৩টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছেন। যেখানে হাজারো তরুণ একটি সম্মানজনক চাকরির জন্য হাহাকার করছে, সেখানে নাহিদ আলমের এই অদম্য জেদ প্রমাণ করে যে, তার লক্ষ্য কোনো সাধারণ কর্মসংস্থান নয়। স্থানীয় এই ২৩টি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সাহসই তাকে আজ বৈশ্বিক প্রযুক্তি জগতের নজরে এনেছে এবং প্রমাণ করেছে যে তার মেধা কেবল গণ্ডিবদ্ধ কোনো সীমানার জন্য নয়।
বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের রেডারে বাংলাদেশের মেধা
বর্তমানে এই তরুণের পেশাদার যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখলে যে কেউ চমকে উঠতে বাধ্য। গুগল ক্লাউড, এনভিডিয়া এবং অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে তার গভীর সংযোগ এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জি-৪২ (G42)-এর কর্মকর্তাদের সাথে তার সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততা প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। সরাসরি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক’ হিসেবে তার কাজের গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার কদর এখন তুঙ্গে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য আর গবেষণার গোপনীয়তা বজায় রাখতে তিনি নিজেকে এক দুর্ভেদ্য আভিজাত্যের আড়ালে ঢেকে রেখেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার মেধা আর বর্তমান কর্মকাণ্ডের যে গতিপথ, তাতে এই অসামান্য প্রতিভার আন্তর্জাতিক কোনো বড় প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা এখন ৯০ শতাংশেরও বেশি।
এটি কি কেবলই মেধা পাচার, নাকি বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের পতাকার এক নতুন রাজত্ব গড়ে তোলা? উত্তরটা সময়ের হাতে থাকলেও, প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশ একজন দক্ষ কারিগরকে হারালেও বিশ্ব পেতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন রূপকারকে। নাহিদ আলম প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম আর অটল জেদ থাকলে নিভৃত কোণে বসেও বিশ্বজয় করা সম্ভব। সবাই এখন কেবল একটিই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নাহিদ আলম পরবর্তী চমকটি কোন আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে দেবেন?
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















