
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহজাহানপুরে রাতের অন্ধকারে ফসলী জমির উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে। তবে এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এক রাতের মধ্যেই প্রায় ৫ কাঠা জমির উপরিভাগের পুরো মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিক কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতের অন্ধকারে সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর মৌজার ফাটাপাড়া এলাকার এসব ফসলী জমি কেটে নিয়ে যায় স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। এনিয়ে গত ১৫ জুন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমির মালিকরা বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শাহজাহানপুর গ্রামের মৃত আব্দল মান্নানের ছেলে মো. তাহির উদ্দিন।
জানা যায়, কয়েক দশক ধরে দেবীনগর মৌজার প্রায় ১০ বিঘা জমি চাষাবাদ করেন পাশের গ্রামের কয়েকজন কৃষক। ঘটনার দিন বিকেলেও স্থানীয়রা জমির অবস্থা স্বাভাবিক দেখেছিলেন। কিন্তু কৃষকরা সকালে গিয়ে দেখেন জমির বিভিন্ন অংশের মাটি কেটে নিয়ে গেছেন স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ফাটাপাড়ার মৃত সাজ্জাদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম, তার ছেলে মো. সোহেল, হরিশপুর খাপড়িপাড়ার মৃত মোজাফফর আলীর ছেলে মো. তেজামুল ও তার ছেলে মো. জুয়েল এসব জমি কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষক তাহির উদ্দিন।
অভিযোগকারী কৃষক তাহির উদ্দিন বলেন, স্বাধীনের আগে থেকে আমাদের বাপ-দাদারা এসব জমি ভোগ-দখল ও চাষাবাদ করে আসছে। কয়েক দশক ধরে চাষাবাদ করলেও হঠাৎ করেই গত ২-৩ বছর আগে এসে জমির মালিকানা দাবি করে জোরপূর্বক দখলে নেয় শফিকুল, তেজামুল ও তাদের লোকজন। বাধা দিতে গেলে মারধর ও গুরুতর জখম করে। এরপর কয়েক দফায় জমি চাষাবাদ করলেও জোরপূর্বক ফসল কেটে নেয় তারা। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই মাটি কেটে নিয়ে গেছ রাতের অন্ধকারে।
আরেক কৃষক ও জমির মালিক আইয়ুব আলী বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে দুই বাপ-চাচার ৯ ভাই এই জমির মালিক। কিন্তু জোরপূর্বক গায়ের জোরে এসে জমি দখলে নেয়। এনিয়ে আদালতে মামলাও চলমান আছে। কিন্তু এমন অবস্থাতেও রাতের অন্ধকারে তারা মাটি কেটে নিয়ে গিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করেছে। আমরা এর নায্য বিচার চাই।
এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযুক্তদের। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন মুঠোফোনে বলেন, এনিয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 



















