‘সব ডিলিট করে দেন, তাহলে সব বলছি’ জামায়াত এমপির আরেক ভিডিও ভাইরাল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৩:৫৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ Time View

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ নতুন আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত এই ভিডিওকে পরিকল্পিত সাজানো ঘটনা, চাঁদা দাবি করে ব্ল্যাকমেইলিং বলে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন নজরুল ইসলাম।

 

এর আগে সোমবার রাতে নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নতুন ভিডিও সামনে আসে।

 

নতুন করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নজরুল ইসলাম এবং ওই তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করে তাদের হাতেনাতে ধরেন। এ সময় তাদের একজন ওই কক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের একটি আইডি কার্ড হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন, যেখানে ‘G. M. Nazrul Islam’ এবং ‘Member of Parliament’ লেখা রয়েছে। এরপর কক্ষে অবস্থানরত নজরুল ইসলাম এবং ওই তরুণীকে দেখিয়ে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি বলছেন, ‘জামায়াতের লোক। দেখেন, সাতক্ষীরা জামায়াতের লোক এখানে ধরা খেয়েছে।’ পরে তরুণীর নাম জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি নাম না বলতে চাইলে তাকে থানায় দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তরুণী বলেন, ‘সব ডিলিট করে দেন, তাহলে সব বলছি। আমার নাম মরিয়ম। নাম বললেও যা হবে, না বললেও তাই হবে। আপনারা এটা নিয়ে ঝামেলা করবেন জানি, তাহলে এসব জিজ্ঞাসা করছেন কেন?’

 

এরপর ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি এমপির কাছে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই মুরুব্বি, এর আগে আপনি এই মেয়েকে কয়দিন নিয়ে এসেছেন?’ তখন এমপি বলেন, ‘আজকে নিয়ে এসেছি, বিশ্বাস করেন। আজকেই প্রথম।’ ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করেন, ‘রুমের ভাড়া কত নিয়েছে?’ তখন এমপি বলেন, ‘আমি জানি না, আমার ড্রাইভার জানে।’ পরে ভিডিও ধারণকারীদের সাথে আসা এক যুবক আলমারি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে যেতে চাইলে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি তাকে বকা দেন। পরে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি এমপিকে বলেন, ‘আপনি অন্যায় করেছেন।’ তখন এমপি বলেন, ‘হ্যাঁ, অন্যায় করেছি।’ ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি পুনরায় প্রশ্ন করেন, ‘আপনি জামায়াত নেতা হয়ে এটা কি ঠিক করেছেন? তখন এমপি বলেন, ‘এমনি নিয়ে এসেছি। আপনারা আমার সাথে নিচে নামলে সব বুঝতে পারবেন।’

 

এ ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমপি নজরুল ভিডিওটির নারী তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে নিশ্চিত করে এটিকে ব্ল্যাকমেইলিং এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে দৃশ্যমান মরিয়ম বেগম (১৮) নামের তরুণীটি অন্য কেউ নন, তিনি আমার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে।’

 

এমপি নজরুলের ভাষ্যমতে, ভিডিও ধারণের ঘটনার দিন তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং নিজস্ব গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সাথে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত তার শ্বশুর মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থানের একপর্যায়ে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ছয়-সাত অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেন।

 

বিবৃতিতে এমপি অভিযোগ করেন, ‘কক্ষে ঢুকেই ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে চরম হেনস্তামূলক আচরণ শুরু করেন। পরে আমাদের নিচের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা দেওয়ার পর আমরা সেখান থেকে রেহাই পাই। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারি, পুরো ঘটনাটির মূল পরিকল্পনাকারী আমার নিজস্ব গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা।’

 

এমপি নজরুলের শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সাথে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতার বিষয়ে এমপি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চালক ওবায়দুল্লাহ সরাসরি আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং শ্বশুরের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে চালক ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ এডিট করে একটি বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।’

 

এ ধরনের হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো বিষয়টি একটি পরিকল্পিত সাজানো নাটক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা চালক ওবায়দুল্লাহসহ জড়িত সব ষড়যন্ত্রকারীকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

 

উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সাথে ‘অন্তরঙ্গ অবস্থায়’ দেখা যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

‘সব ডিলিট করে দেন, তাহলে সব বলছি’ জামায়াত এমপির আরেক ভিডিও ভাইরাল

Update Time : ১২:১৩:৫৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ নতুন আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত এই ভিডিওকে পরিকল্পিত সাজানো ঘটনা, চাঁদা দাবি করে ব্ল্যাকমেইলিং বলে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন নজরুল ইসলাম।

 

এর আগে সোমবার রাতে নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নতুন ভিডিও সামনে আসে।

 

নতুন করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নজরুল ইসলাম এবং ওই তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করে তাদের হাতেনাতে ধরেন। এ সময় তাদের একজন ওই কক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের একটি আইডি কার্ড হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন, যেখানে ‘G. M. Nazrul Islam’ এবং ‘Member of Parliament’ লেখা রয়েছে। এরপর কক্ষে অবস্থানরত নজরুল ইসলাম এবং ওই তরুণীকে দেখিয়ে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি বলছেন, ‘জামায়াতের লোক। দেখেন, সাতক্ষীরা জামায়াতের লোক এখানে ধরা খেয়েছে।’ পরে তরুণীর নাম জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি নাম না বলতে চাইলে তাকে থানায় দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তরুণী বলেন, ‘সব ডিলিট করে দেন, তাহলে সব বলছি। আমার নাম মরিয়ম। নাম বললেও যা হবে, না বললেও তাই হবে। আপনারা এটা নিয়ে ঝামেলা করবেন জানি, তাহলে এসব জিজ্ঞাসা করছেন কেন?’

 

এরপর ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি এমপির কাছে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই মুরুব্বি, এর আগে আপনি এই মেয়েকে কয়দিন নিয়ে এসেছেন?’ তখন এমপি বলেন, ‘আজকে নিয়ে এসেছি, বিশ্বাস করেন। আজকেই প্রথম।’ ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করেন, ‘রুমের ভাড়া কত নিয়েছে?’ তখন এমপি বলেন, ‘আমি জানি না, আমার ড্রাইভার জানে।’ পরে ভিডিও ধারণকারীদের সাথে আসা এক যুবক আলমারি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে যেতে চাইলে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি তাকে বকা দেন। পরে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি এমপিকে বলেন, ‘আপনি অন্যায় করেছেন।’ তখন এমপি বলেন, ‘হ্যাঁ, অন্যায় করেছি।’ ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি পুনরায় প্রশ্ন করেন, ‘আপনি জামায়াত নেতা হয়ে এটা কি ঠিক করেছেন? তখন এমপি বলেন, ‘এমনি নিয়ে এসেছি। আপনারা আমার সাথে নিচে নামলে সব বুঝতে পারবেন।’

 

এ ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমপি নজরুল ভিডিওটির নারী তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে নিশ্চিত করে এটিকে ব্ল্যাকমেইলিং এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে দৃশ্যমান মরিয়ম বেগম (১৮) নামের তরুণীটি অন্য কেউ নন, তিনি আমার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে।’

 

এমপি নজরুলের ভাষ্যমতে, ভিডিও ধারণের ঘটনার দিন তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং নিজস্ব গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সাথে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত তার শ্বশুর মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থানের একপর্যায়ে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ছয়-সাত অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেন।

 

বিবৃতিতে এমপি অভিযোগ করেন, ‘কক্ষে ঢুকেই ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে চরম হেনস্তামূলক আচরণ শুরু করেন। পরে আমাদের নিচের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা দেওয়ার পর আমরা সেখান থেকে রেহাই পাই। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারি, পুরো ঘটনাটির মূল পরিকল্পনাকারী আমার নিজস্ব গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা।’

 

এমপি নজরুলের শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সাথে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতার বিষয়ে এমপি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চালক ওবায়দুল্লাহ সরাসরি আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং শ্বশুরের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে চালক ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ এডিট করে একটি বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।’

 

এ ধরনের হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো বিষয়টি একটি পরিকল্পিত সাজানো নাটক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা চালক ওবায়দুল্লাহসহ জড়িত সব ষড়যন্ত্রকারীকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

 

উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সাথে ‘অন্তরঙ্গ অবস্থায়’ দেখা যায়।