
দীর্ঘ ১৭ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় পাথর আমদানি শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে পাথরবাহী ট্রাক প্রবেশ করবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ও ভারতের আমদানি-রপ্তানিকারক নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঘণ্টাব্যাপী অনলাইন জুম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ টনপ্রতি পাথরের শুল্কায়ন মূল্য ১৪ মার্কিন ডলার নির্ধারণে একমত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি জানান, নতুন সমঝোতার ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পাথর আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।
এর আগে গত ১৭ মে রোববার বাংলাদেশের সোনামসজিদ স্থলবন্দর
আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পাথর আমদানিতে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন এবং বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষ। পরবর্তীতে সোমবার বিকেলের জুম মিটিংয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়নের সরকারি মূল্য টনপ্রতি ১৩ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৪ ডলার নির্ধারণে সম্মত হয় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। এর ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে।
এর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ১৫ ডলারের নিচে পাথর রপ্তানিতে অনাগ্রহ দেখায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ১৩ ডলারের বেশি মূল্যে পাথর আমদানিতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায় এবং সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে পড়ে।
তবে নতুন সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, দীর্ঘদিন আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পরিবহন খাতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়া শ্রমিকদের মাঝেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পাথরবাহী ট্রাক প্রবেশ ও খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
Reporter Name 


















