শিরোনামঃ
আইনজীবীদের দুই পক্ষের মারামারিতে গুরুতর আহত ৪, সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ৫৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ আইনজীবীদের দুই পক্ষের মারামারিতে গুরুতর আহত ৪, সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম চিনবেন যেভাবে রাজশাহীতে গুটি আম পাড়া শুরু কিশোরগঞ্জের মঙ্গলবাড়িয়ায় এবার ১২ কোটি টাকার লিচু বিক্রির আশা য়শোরে প্রথম ধাপে ফ্যামেলি কার্ডের টাকা পেলেন ২০৪২ উপকারভোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পদ্মায় মিলল অর্ধগলিত মরদেহ, নিখোঁজ ছিলেন ১০ মে থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিজয়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতী সন্তান ড. মো: জিয়াউর রহমান
News Title :
আইনজীবীদের দুই পক্ষের মারামারিতে গুরুতর আহত ৪, সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ৫৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ আইনজীবীদের দুই পক্ষের মারামারিতে গুরুতর আহত ৪, সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম চিনবেন যেভাবে রাজশাহীতে গুটি আম পাড়া শুরু কিশোরগঞ্জের মঙ্গলবাড়িয়ায় এবার ১২ কোটি টাকার লিচু বিক্রির আশা য়শোরে প্রথম ধাপে ফ্যামেলি কার্ডের টাকা পেলেন ২০৪২ উপকারভোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পদ্মায় মিলল অর্ধগলিত মরদেহ, নিখোঁজ ছিলেন ১০ মে থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিজয়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতী সন্তান ড. মো: জিয়াউর রহমান

কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম চিনবেন যেভাবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০১:২০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ১৬ Time View

কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম চিনবেন যেভাবে

প্রাকৃতিক বা গাছ পাকা আম হলো রাসায়নিকমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। বাজারে কৃত্রিম উপায়ে ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা অন্যান্য কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আমের ভিড়ে আসল প্রাকৃতিক আম চেনা বেশ জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে অনেক আমই কৃত্রিমভাবে রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কারবাইড ব্যবহার করে দ্রুত আম পাকানোর প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনকভাবে রয়েছে। এ রাসায়নিক আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে, যা খুব দ্রুত ফলের রং পরিবর্তন করে হলুদ করে ফেলে।

তবে এই ক্যালসিয়াম কারবাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি থাকতে পারে। এসব উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে বমি ভাব, পেটের সমস্যা, ত্বকে ক্ষতসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলেই বাজার থেকে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম বেছে নেওয়া সম্ভব।

রঙ দেখে বুঝুন
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে সাধারণত হলুদ ও সবুজ রঙের মিশ্রণ থাকে। পুরো আমে রং সমান হয় না। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দেখায় এবং প্রায় পুরো ফলই একই ধরনের কৃত্রিম হলুদ রঙ ধারণ করে।

ঘ্রাণে মিলবে আসল পরিচয়
আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে শুঁকলে যদি মিষ্টি ও স্বাভাবিক ফলের সুবাস পাওয়া যায়, তবে সেটি সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে পাকা। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে অনেক সময় কোনো ঘ্রাণ থাকে না, আবার কখনো ঝাঁজালো রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।

ভেতরের রং ও গঠন দেখুন
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কাটলে ভেতরের অংশ গাঢ় হলুদ বা জাফরানি রঙের হয় এবং নরম থাকে। কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো আম বাইরে থেকে নরম মনে হলেও ভেতরে ফ্যাকাশে, শক্ত কিংবা রাবারের মতো হতে পারে।

পানিতে ভাসে কি না পরীক্ষা করুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সবচেয়ে সহজ পরীক্ষাগুলোর একটি। একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে আম ফেলুন। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম সাধারণত পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো অনেক আমের ভেতরে বাতাসের পকেট তৈরি হওয়ায় তা ভেসে থাকতে পারে।

অতিরিক্ত চকচকে আমে সতর্ক থাকুন
স্বাভাবিকভাবে পাকা আমের গায়ে ছোটখাটো দাগ বা খুঁত থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত মসৃণ, চকচকে ও একেবারে নিখুঁত দেখানো আম অনেক সময় কৃত্রিমভাবে পাকানো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আম কেনার পর খাওয়ার আগে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ফলের গায়ে থাকা কিছু রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ দূর হতে পারে।

এ ছাড়া বাজার থেকে একেবারে পাকা আম কেনার বদলে কাঁচা আম কিনে বাড়িতে খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা চালের পাত্রে রেখে স্বাভাবিকভাবে পাকানো নিরাপদ উপায় বলে মনে করছেন তারা।

তাদের মতে, রাস্তার পাশের অচেনা দোকানের পরিবর্তে পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনাই ভালো। কারণ দেখতে আকর্ষণীয় হলেই যে তা নিরাপদ হবে, এমন নয়। সামান্য সচেতনতাই পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

আইনজীবীদের দুই পক্ষের মারামারিতে গুরুতর আহত ৪, সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতন

কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম চিনবেন যেভাবে

Update Time : ১০:০১:২০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

প্রাকৃতিক বা গাছ পাকা আম হলো রাসায়নিকমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। বাজারে কৃত্রিম উপায়ে ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা অন্যান্য কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আমের ভিড়ে আসল প্রাকৃতিক আম চেনা বেশ জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে অনেক আমই কৃত্রিমভাবে রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কারবাইড ব্যবহার করে দ্রুত আম পাকানোর প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনকভাবে রয়েছে। এ রাসায়নিক আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে, যা খুব দ্রুত ফলের রং পরিবর্তন করে হলুদ করে ফেলে।

তবে এই ক্যালসিয়াম কারবাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি থাকতে পারে। এসব উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে বমি ভাব, পেটের সমস্যা, ত্বকে ক্ষতসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলেই বাজার থেকে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম বেছে নেওয়া সম্ভব।

রঙ দেখে বুঝুন
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে সাধারণত হলুদ ও সবুজ রঙের মিশ্রণ থাকে। পুরো আমে রং সমান হয় না। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দেখায় এবং প্রায় পুরো ফলই একই ধরনের কৃত্রিম হলুদ রঙ ধারণ করে।

ঘ্রাণে মিলবে আসল পরিচয়
আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে শুঁকলে যদি মিষ্টি ও স্বাভাবিক ফলের সুবাস পাওয়া যায়, তবে সেটি সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে পাকা। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে অনেক সময় কোনো ঘ্রাণ থাকে না, আবার কখনো ঝাঁজালো রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।

ভেতরের রং ও গঠন দেখুন
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কাটলে ভেতরের অংশ গাঢ় হলুদ বা জাফরানি রঙের হয় এবং নরম থাকে। কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো আম বাইরে থেকে নরম মনে হলেও ভেতরে ফ্যাকাশে, শক্ত কিংবা রাবারের মতো হতে পারে।

পানিতে ভাসে কি না পরীক্ষা করুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সবচেয়ে সহজ পরীক্ষাগুলোর একটি। একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে আম ফেলুন। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম সাধারণত পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো অনেক আমের ভেতরে বাতাসের পকেট তৈরি হওয়ায় তা ভেসে থাকতে পারে।

অতিরিক্ত চকচকে আমে সতর্ক থাকুন
স্বাভাবিকভাবে পাকা আমের গায়ে ছোটখাটো দাগ বা খুঁত থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত মসৃণ, চকচকে ও একেবারে নিখুঁত দেখানো আম অনেক সময় কৃত্রিমভাবে পাকানো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আম কেনার পর খাওয়ার আগে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ফলের গায়ে থাকা কিছু রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ দূর হতে পারে।

এ ছাড়া বাজার থেকে একেবারে পাকা আম কেনার বদলে কাঁচা আম কিনে বাড়িতে খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা চালের পাত্রে রেখে স্বাভাবিকভাবে পাকানো নিরাপদ উপায় বলে মনে করছেন তারা।

তাদের মতে, রাস্তার পাশের অচেনা দোকানের পরিবর্তে পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনাই ভালো। কারণ দেখতে আকর্ষণীয় হলেই যে তা নিরাপদ হবে, এমন নয়। সামান্য সচেতনতাই পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।