
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বসতে যাচ্ছে। তার আগে বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। সভার সভাপতিত্ব করবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। সভায় প্রবীণ রাজনীতিক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করতে পারেন।
সংসদীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পিকার পদে নির্বাচিত ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। বিশেষ করে পাঁচবার বা তার বেশি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত নেতা বেছে নেওয়া হবে, যাতে সংসদীয় কার্যক্রম দক্ষভাবে পরিচালনা হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা এবং রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখাদের মধ্যে থেকে দল যোগ্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন, আর ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যাকাণ্ডের মামলার কারণে কারাগারে থাকায় প্রথম অধিবেশনে সভাপতির জন্য নতুন একজন প্রয়োজন।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কোনো কারণে সভাপতিত্ব করতে না পারলে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ দায়িত্ব পালন করবেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ। স্পিকার পদে ড. মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুকের নাম ঘুরছে।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের নামও স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। যদিও তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, দীর্ঘ আইনজীবী অভিজ্ঞতা ও সংসদীয় বিধি-বিধান সম্পর্কে দক্ষতার কারণে তার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, ডেপুটি স্পিকার পদ প্রধান বিরোধী দলকে দেওয়া হবে। এজন্য জামায়াতকে প্রার্থী প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাবে বিরোধী দল সাড়া না দেওয়ায় আজকের সংসদীয় দলের সভায় এ বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। জামায়াত নাম না দিলে সরকারী দল থেকেই প্রার্থী দেওয়া হবে।
এদিকে সংবিধান অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই জুলাই সংদে পাশ হয়েছে। বিএনপি প্রস্তাবে একমত হয়েছে এবং তাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও বলা হয়েছে, সংসদের দুই কক্ষে ডেপুটি স্পিকার পদ থাকবে, যাতে একটি বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে। তবে এ পদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















