
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাধানগরে সরকারি পুকুরের পাড়ে থাকা ১০-১২টি মধ্যবয়সী আকাশমুনি ও আমগাছ উদ্বার করেছে ভূমি অফিস। জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে এসব গাছ উদ্বার করলেও দোষীদের বিরুদ্ধে দেড় মাসেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এতে হতবাক স্থানীয়রা। বর্তমানে রাধানগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনেই পড়ে রয়েছে গাছগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বেগপুর গ্রামের সরকারি পুকুর পাড়ে এসব গাছ ছিল। কিন্তু প্রায় দেড় মাস আগে হঠাৎ করেই এসব গাছ কাটা শুরু করেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি৷ এসময় স্থানীয়রা ভূমি অফিসকে খবর দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে আসলে গাছ ফেলে পালিয়ে যায় তারা। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পর গাছগুলো উদ্ধার করে ভূমি অফিসে নিয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করেই সরকারি পুকুরের ধারে থাকা গাছগুলো কাটা শুরু করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এরপর ভূমি অফিসের খবর দিলে, দীর্ঘদিন পর গাছগুলো নিয়ে গেলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এনিয়ে ব্যবস্থা নিতে বললেও নানরকম গড়িমসি করছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা।
স্থানীয় যুবক সোহেল রানা দাবি করে বলেন, আমরা শুনেছি, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ম্যানেজ হয়ে গেছে। এতগুলো তাজা গাছ কেটে ফেলে রাখা অবস্থায় উদ্বার করা হলেও গাছগুলো বিক্রি বা দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কোন উদ্যোগ নেননি। কোন ব্যবস্থা না হওয়ার কারনেই গাছ কাটার পাশাপাশি সেই বেগপুর পুকুরের একাংশ দখল হয়ে গেছে। বেগপুর গ্রামবাসীর দাবি, দোষীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে আর কেউ সরকারি গাছ কাটার কথা চিন্তাও না করে।
এনিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি রাধানগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মফিজুর ইসলাম । তবে তিনি জানান, গাছের সংখ্যা বেশি নয়, গাছ আনতে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, তা বিক্রি করেও পাওয়া যাবে না। অপরদিকে, যে ব্যক্তিরা গাছ কেটেছে, তার নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে হয়রানীতে পড়বে।
এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ডের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাঁপাই জনপদ 














