
বিক্রিত জমি জোর করে ফেরত নেওয়ার আশায় জবরদখল করার জন্য আম বাগানের সাত টি উচ্চ মূল্যের আম গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে অভিযুক্তরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের চাপড় মৌজার আর এস দাগ নাম্বার যথাক্রমে ৭৯৭, ৭৯৮, ৭৯৯, ৮৪৬ ও জে,এল নং ২ এবং আর এস খতিয়ান নং ৮৩ যার প্রস্তাবিত খতিয়ান নং ৯২৫, হোল্ডিং নং ৯৯৫ এই জমি আম বাগানসহ বিক্রির পরেও হঠাৎ অভিযুক্তরা আবার মালিকানা দাবি করায় এমন ঘটনা ঘটে।
গত ২১ নভেম্বর (২০২৫) তারিখে শিবগঞ্জ উপজেলা দয়পুকুরিয়া ইউনিয়ন গাজীপুর গ্রামের মেসার্স মামুন এন্টারপ্রাইজ এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ মামুনুর রশিদ ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে প্রাণ নাসের হুমকি দিলে তিনি শিবগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে একই উপজেলার সাহবাজপুর ইউনিয়নের মোঃ দৌলত মন্ডল দুলু ওরফে তোরিকুল ইসলাম(৫০), মোসা: দুলালী বেগম (৪০) এবং দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের মোঃ মাসুদ রানাদের (৩০) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভুগি মামুনার রশিদ বলেন,
যাদের বিরুদ্ধে আমি গত কালকে শিবগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেছি তারা রাতের আঁধারে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বাগানের সাতটি আম গাছ নির্মম ভাবে কেটে ফেলেছে। ক্রয় সূত্রে দীর্ঘদিন যাবৎ এই জমি আমি ভোগ দখল করে আসছি। ভোগ দখল করা কালীন কোনো প্রকার বাধার সম্মুখীন হয়নি। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত তোরিকুল ইসলাম প্রায় দুই বছর আগে জমি বিক্রি করে দিলেও বর্তমানে কোনো প্রকার গ্রহণ যোগ্য কাগজ পত্র না থাকার ফলেও অযৌক্তিক ভাবে জোর করে বিক্রিত জমি জবড়দখল করে ভোগ করার অপচেষ্টা করছে। গাছ কেটে আমার চরম ক্ষতি করেছে, তাই আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
আম বাগানের জোগানদারের স্ত্রী টুনিয়ারা বলেন, তোরিকুল ইসলাম দুলু আমাকে কয়েকদিন আগে আমাকে বলেছে, “তুই বাগানে আর যাবিনা আর যদি যাস তাহলে লাস ফেলে দিবো”
বাগানের পাশে বাড়ি মিজানুর রহমান বলেন, বাগানটি প্রথমে ছিলো দুলুর, তারপর শিবগঞ্জের লোকের কাছে বিক্রি করলে পরে বর্তমান মালিক মামুনার রশিদ শিবগঞ্জের লোকের কাছ থেকে ক্রয় করে। এই গাছগুলো কেটে ফেলে অন্যায় করেছে।
আম বাগানের লিজ গ্রহীতা মইনুদ্দিন জামান রনি বলেন, আমি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আগামী ৫ বছরের জন্য বাগানের আমফল বর্তমান মালিক মামুনার রশিদ এর নিকট থেকে ডিড করে ক্রয় করি। গতবছর বাগানে খরচের তুলনায় ইনকাম কম করেছি। এবছর লাভের আশায় বাগান পরিচর্যা করতে গিয়ে আবারও অনেক টাকা খরচ করেছি কিন্তু আম গাছ কেটে ফেলাই আমি এখন দিশেহারা। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বলেন,
বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
চাঁপাই জনপদ ডেস্ক 


















