
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে উদযাপিত হয়! স্পেনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস এখনও পুরোপুরি ম্লান হয়নি। কিন্তু ট্রফি হাতে উৎসবের রেশ কাটার আগেই নতুন এক বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং বাজির বাজারে অস্বাভাবিক কিছু কার্যক্রম!
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রীড়া ইভেন্টে কারসাজি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করা স্বাধীন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কোপেনহেগেন গ্রুপ সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সাতটি ঘটনাকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগও করেছে।
এই সাত ঘটনার মধ্যে দুটি স্পেন জাতীয় দলকে ঘিরে। প্রথম ঘটনাটি স্পেন ও কেপ ভার্দের ম্যাচকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বাজির প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটে স্পেন কেপ ভার্দেকে হারাতে পারবে না-এমন পূর্বাভাসে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ঘটনাটি সৌদি আরবের বিপক্ষে স্পেনের বড় জয়ের ম্যাচে ফেরান তোরেসের একটি গোল বাতিল করতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় নেওয়াকে ঘিরে।
তবে এই ঘটনাগুলোকে এখনই ম্যাচ পাতানো বা কারসাজির প্রমাণ হিসেবে দেখছে না কোপেনহেগেন গ্রুপ। সংস্থাটি এগুলোকে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বা হলুদ সতর্কতা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। কোনো ম্যাচকে ঘিরে অস্বাভাবিক বাজির ধারা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন কিংবা তথ্য পাচারের মতো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে এই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়। চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থায় এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ধাপ।
বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কোপেনহেগেন গ্রুপের সাবেক সহযোগী ও ক্রীড়া বাজি–বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান কালব। তিনি দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, ‘কোপেনহেগেন গ্রুপের সতর্কতা অনেক সময় অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণেও জারি হতে পারে। যেমন অডসের পরিবর্তন বা হেজিংয়ের তারল্যে অস্বাভাবিক ওঠানামা। এর অনেক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, যার সবই ম্যাচ কারসাজির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।’
অন্যদিকে ফিফা শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। অভিযোগের পর সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কোনো ম্যাচের ক্ষেত্রেই সন্দেহজনক বাজির কার্যক্রম বা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কোনো ইঙ্গিত শনাক্ত হয়নি।’
আপাতত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। তবে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে অস্বাভাবিক বাজির প্রবণতা নিয়ে স্বাধীন সংস্থার নজরদারি আবারও মনে করিয়ে দিল, আধুনিক ফুটবলে শুধু মাঠের ৯০ মিনিটই নয়, মাঠের বাইরের প্রতিটি ঘটনাও এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায়। তদন্তের ফল যাই হোক না কেন, বিশ্বকাপ-পরবর্তী আলোচনায় স্পেনের শিরোপার পাশে আপাতত যুক্ত হয়েছে আরেকটি শব্দ-‘তদন্ত’!
Reporter Name 


















