
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার যেন সব হিসাবই লেখা হচ্ছে নতুন করে! অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮-এ উন্নীত হওয়ায় যেমন বেড়েছে ম্যাচ, তেমনি বেড়েছে আয়, দর্শক আগ্রহ এবং পুরস্কারের অঙ্কও। ফলে ট্রফি জয়ের গৌরবের পাশাপাশি রেকর্ড অর্থ পুরস্কারের হাতছানিও থাকছে ফাইনালে ওঠা দলগুলোর সামনে।
ফিফা আগেই জানিয়েছিল, এবারের বিশ্বকাপের জন্য মোট ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেশি। সেই তহবিল থেকেই রোববারের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল পাবে ৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬১৬ কোটি টাকারও বেশি। রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
শুধু ফাইনালিস্ট নয়, শেষ চার থেকে শুরু করে নকআউট পর্বে খেলা প্রতিটি দলই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ হওয়া দল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া চার দলের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়া আটটি দল পাচ্ছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে, আর রাউন্ড অব ৩২ থেকে ছিটকে পড়া ১৬টি দলের প্রত্যেকের ভাগে পড়ছে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের জন্যও রয়েছে নিশ্চিত অর্থ। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলো ৯০ লাখ ডলার পাচ্ছে। এর সঙ্গে প্রস্তুতি ব্যয়ের জন্য আরও ১৫ লাখ ডলার যোগ হওয়ায় কোনো দলই ১ কোটি ৫ লাখ ডলারের কম পাচ্ছে না।
তবে এই অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের হাতে যায় না। ফিফা পুরো প্রাইজমানি সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এরপর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের জন্য বোনাস নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন। অবশিষ্ট অর্থ সাধারণত ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক কার্যক্রম এবং তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
বিশ্বকাপ বড় হওয়ার সুফল সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে ফিফাও। ৪৮ দলের এই আসর থেকে সংস্থাটির আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ সেই বিপুল আয়ের মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ দলগুলোর মধ্যে প্রাইজমানি হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে। চলমান চার বছরের আর্থিক চক্র শেষে ফিফার মোট রাজস্ব ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের চক্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কারের অঙ্কও আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ২০২২ বিশ্বকাপে শিরোপাজয়ী আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এবার সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ডলার। রানার্সআপ দলের পুরস্কারও আগের আসরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রাইজমানির বিবর্তনও চোখে পড়ার মতো। ১৯৮২ সালে স্পেন বিশ্বকাপে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাইজমানির তথ্য প্রকাশ করে ফিফা। তখন চ্যাম্পিয়ন ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার, আর পুরো টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি ছিল ২ কোটি ডলার। চার দশকের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে গেছে আমূল। এখন শুধু চ্যাম্পিয়ন দলই পাচ্ছে ১৯৮২ সালের পুরো টুর্নামেন্টের মোট পুরস্কারের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ।
ফাইনালের পর ট্রফি ও অর্থ পুরস্কারের পাশাপাশি দেওয়া হবে ব্যক্তিগত স্বীকৃতিও। চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা পাবেন সোনার মেডেল। রানার্সআপরা রুপার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীরা ব্রোঞ্জের মেডেল গ্রহণ করবেন। এছাড়া সেরা খেলোয়াড়ের জন্য ‘গোল্ডেন বল’, সেরা গোলরক্ষকের জন্য ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার জন্য ‘গোল্ডেন বুট’ থাকছে। তবে এসব ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত অর্থ পুরস্কার যুক্ত নেই!
Md Biplob Ahommed 


















