
ফুটবলে জার্সি শুধু একটি পোশাক নয়। অনেক সময় সেটি হয়ে ওঠে ইতিহাসের অংশ, স্মৃতির বাহক, কখনো আবার অদৃশ্য এক বিশ্বাসের প্রতীক। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে রণকৌশল যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই আলোচনায় থাকে কোন জার্সি পরে মাঠে নামবে দুই দল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে সেই উত্তরও মিলেছে। আর্জেন্টিনা ফিরছে তাদের সবচেয়ে পরিচিত চেহারায়-আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি, সাদা শর্টস আর সাদা মোজায়!
আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছে ইতোমধ্যে ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ মুহূর্তের কৌশল নিয়ে যত ব্যস্তই থাকুক, একটি বিষয়ে কোনো পরীক্ষানিরীক্ষা করতে চাইছে না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যে জার্সি তাদের সবচেয়ে বেশি সাফল্য এনে দিয়েছে, সেই জার্সিই থাকবে ফাইনালের মঞ্চে।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বেশির ভাগ ম্যাচই খেলেছে এই হোম কিটে। শুধু গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নীল মোজা ব্যবহার করা হয়েছিল। জর্ডানের বিপক্ষে পুরোপুরি বিকল্প জার্সি পরে খেলেছিল আলবিসেলেস্তেরা। পরে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ছিল অ্যাওয়ে কিট। তবে আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তারা খেলেছে ঐতিহ্যবাহী হোম জার্সিতেই। ফাইনালেও সেই ধারাই বজায় রাখছেন মেসিরা।
এই সিদ্ধান্তে আবেগেরও একটি জায়গা রয়েছে। কারণ ঠিক এই ধরনের জার্সি পরেই ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিল আর্জেন্টিনা। কাতারের সেই অবিস্মরণীয় রাতের স্মৃতি এখনো টাটকা। ফলে অনেক সমর্থকের কাছেই এটি কেবল একটি জার্সি নয়, বিশ্বজয়ের প্রতীক।
শুধু আউটফিল্ড খেলোয়াড়রাই নন, গোলবারের নিচেও দেখা যাবে পরিচিত এক দৃশ্য। গোলকিপার এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ মাঠে নামবেন সম্পূর্ণ সবুজ কিট পরে। এটিও যেন আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
২০২১ সালে মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর রাতে দিবুর গায়ে ছিল সবুজ জার্সি। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতেও একই রঙের কিটে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালেও সবুজ পোশাকেই গোলবার সামলান। প্রতিবারই শেষ পর্যন্ত শিরোপা উঠেছে আর্জেন্টিনার হাতে। তাই অনেকেই দিবুর সবুজ জার্সিকে এখন ‘লাকি চার্ম’ বলেই মনে করেন।
অবশ্য ফুটবলে কুসংস্কারের জায়গা যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ধারণ হয় মাঠের পারফরম্যান্সে। তবু বড় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতে এমন ছোট ছোট বিষয়ও অনেক সময় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে স্পেনও ফিরছে নিজেদের ঐতিহ্যে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিকল্প জার্সি পরে খেললেও ফাইনালে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল নামবে পরিচিত লাল হোম কিটে। লামিন ইয়ামালদের জার্সিতে থাকবে নীল হাতা আর হলুদের নান্দনিক ছোঁয়া-যে পরিচয়ে বহু বছর ধরে পরিচিত ‘লা রোহা’।
বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই ইতিহাস লেখার মঞ্চ। সেই রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই পরাশক্তি। একজন নামবে আকাশি-সাদা ডোরাকাটায়, অন্যজন রক্তিম লালে। এক দলের কাছে এই জার্সি বিশ্বজয়ের স্মৃতি, অন্য দলের কাছে নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত কোন রং বিজয়ের রং হয়ে উঠবে, তার উত্তর মিলবে ৯০ মিনিট-বা তারও বেশি সময়ের লড়াই শেষে!
Md Biplob Ahommed 


















